মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল, ভোলা,
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ভোলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, মানবিক মূল্যবোধ ও মহান আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোলা জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ভোলার উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. শামীম রহমান।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ভোলার উপ-পরিচালক আলহাজ মোঃ মকসুদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনিন্দ্য মণ্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ নুরুন্নবী, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ সাপাতুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিজেপি ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, এনসিপি ভোলা জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুঃ মাকসুদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা উত্তর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদর উপজেলা সভাপতি মোঃ বাদশা আলম, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মনিরুল ইসলাম, দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রহমান হেলালসহ আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সীরাতের আলোয় চরিত্র গঠনের আহ্বান
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, ভোলা জেলা সভাপতি মাওলানা মীর মো. বেলায়েত হোসেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল, ভোলা জেলা সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোঃ মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন ওলামায়ে কেরাম।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর সংগ্রামী ও আদর্শময় জীবন, মানবতার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর সমগ্র জীবন মানবতা, ন্যায়বিচার, সাম্য, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা, সত্যনিষ্ঠা ও শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজন দূর করতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শকে শুধু আলোচনা সভা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং তাঁর শিক্ষা ও সুন্নাহকে নিজেদের ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের মাঝে মহানবী (সা.)-এর সীরাত ও সুন্নাহর শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ও জীবনকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা
অনুষ্ঠান সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এতে অংশগ্রহণকারী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ভোলার উপ-পরিচালক জনাব মোঃ মকসুদুর রহমান।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের আলোচনা মানুষের হৃদয়ে নৈতিক ও মানবিক চেতনা জাগ্রত করে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮