মাহবুবুর রহমান (শান্ত):
সংরক্ষিত নারী আসনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, প্রত্যেককে আন্তরিক শুভেচ্ছা। ডা. প্রিয়াঙ্কাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি—প্রথম দেখাতেই তাঁর আন্তরিকতা আমাকে স্পর্শ করেছিল। একদিন মজার ছলে বলেছিলাম, “নির্বাচনে কষ্ট পেও না, তোমাকে হয়তো সংরক্ষিত আসনেই সংসদে আনা হবে”—আজ সেটি বাস্তব হয়েছে দেখে ভালো লাগছে।
আমি বিশ্বাস করি, ব্যর্থতা আসলে দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সৃষ্টিকর্তা কখনো কখনো একটি পথে ব্যর্থতার মাধ্যমে আমাদের আরও প্রভাবশালী পথের দিকে এগিয়ে দেন।
দলে যোগদানের আগে নতুন মুখ ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা শুনেছিলাম। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলের সহকর্মীরা আমাকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন—অফিসে গেলে তাদের আন্তরিকতা, শুভেচ্ছা, এমনকি ভিড় থেকে সুরক্ষা দেওয়ার মানবিক আচরণ আমার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে। আমি ভেবেচিন্তেই এই দলে এসেছি।

তবে একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে—সংসদে সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্তত কয়েকজন প্রতিনিধির থাকা উচিত ছিল। আজকের বিশ্বে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, ধর্মীয় বিভাজন এবং ন্যারেটিভ যুদ্ধ বাস্তবতা। শক্তিশালী সংসদগুলোতে এমন মানুষ থাকেন, যারা দেশের গল্পকে গ্লোবাল মিডিয়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারেন। সংস্কৃতি এখন কেবল পরিচয়ের বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রীয় শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমি না হলেও, যদি এমন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা যেত, যিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, তবে সংসদ আরও সমৃদ্ধ হতো।
তারেক রহমান একজন দূরদর্শী নেতা। আমি বিশ্বাস করি, দলীয় বাস্তবতা ও কমিটির বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তাঁর মতো নেতৃত্ব নিশ্চয়ই এই ঘাটতি অনুধাবন করেন এবং বিকল্প উপায়ে আমাদের মতো মানুষদের কাজে লাগানোর পথ খুঁজে নেবেন।
আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য—মেয়র নির্বাচন—এখনও অটুট। জনগণের অনুরোধ ও তাদের আর্থিক সমর্থনে আমি সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছিলাম। সুযোগটি না পাওয়া হতাশার, তবে এটি পথের শেষ নয়; বরং দায়িত্বের পরিসর নতুনভাবে নির্ধারণের একটি মুহূর্ত।
একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি মানবতাবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ ও বেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। তখন আমি আন্তর্জাতিকভাবে ততটা পরিচিত ছিলাম না, কিন্তু ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল—এটাই গণতন্ত্রের শক্তি।
যদি রাষ্ট্র সেই অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে স্থান দিত, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হতো।
আমি প্রচলিত রাজনীতির দীর্ঘদিনের মুখ নই। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি—এটাই আমার সীমাবদ্ধতা, আবার এটিই আমার শক্তি। আমি নিজেকে আরও গড়ে তুলতে চাই, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মেন্টরশিপে একটি আধুনিক, সংযুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করতে চাই—যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরবে।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু ও সবুজ অর্থনীতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। আমাদের নারীরা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাদের সংগ্রাম, স্থিতিশীলতা ও সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরা জরুরি।
একইসঙ্গে আমাদের সামাজিক বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও শিক্ষার ঘাটতি আমাদের মানবসম্পদ বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রকে এখন এমন নীতিতে বিনিয়োগ করতে হবে, যা আগামী দুই প্রজন্মের জন্য গুণগত মানবসম্পদ তৈরি নিশ্চিত করবে। নইলে দুর্নীতি ও অপরাধের কাঠামোগত সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
সবশেষে বলি—নেতৃত্ব কোনো পদবির বিষয় নয়; এটি দৃষ্টিভঙ্গি, প্রস্তুতি ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়। আমি সেই পথেই আছি।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮