মো: আব্দুর রহিম, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
দ্বীপজেলা ভোলাকে বরিশালের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত করার দাবিতে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে কোনো নৌযান ব্যবহার না করে সাঁতরে পদ্মানদী পার হওয়ার চেষ্টা করল ৩ জন গুরুতর আহত হন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকায় পদ্মাসেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুরের শিবচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
লংমার্চকারীরা প্রথমে পদ্মাসেতু দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেতুতে হাঁটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাদের সেতুতে উঠতে দেয়নি। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেন দাবি বাস্তবায়নের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে পদ্মানদী সাঁতরে পার হবেন।
এর আগে ভোলা–বরিশাল সেতুর কাজ শুরুসহ পাঁচ দফা দাবিতে চরফ্যাশন থেকে ২০ শিক্ষার্থী গত (১১ নভেম্বর) ঢাকার উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন। বুধবার তারা নাওডোবা পদ্মা সেতু এলাকায় পৌঁছে সেতু দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু অনুমতি না মেলায় শিক্ষার্থীরা বিকল্প হিসেবে নদী সাঁতরে পার হওয়ার ঘোষণা দেন।
গ্যাসের ভাণ্ডার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ভোলা জেলা একটি সেতুর অভাবে দেশের মূলভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। এ কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ সব খাতে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষকে।
পিছিয়ে পড়া জনপদকে সড়কপথে যুক্ত করতে ভোলা–বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবিতে চরফ্যাশন থেকে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ শুরু হয়।
গত ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী পায়ে হাঁটা লংমার্চ শুরু করেন, যার লক্ষ্য রাজধানী ঢাকা।
তাদের ৫দফা দাবীগুলো হলো, ভোলা–বরিশাল সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু, ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, গ্যাসভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন, ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, উপকূল সুরক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কষ্ট জানাতে শিক্ষার্থীরা যে পথে নেমেছেন, তা ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে আসছে। তাদের বলছেন,“সেতু না থাকার কষ্ট বোঝাতে আমরা সাঁতরে পার হওয়ার পথটাই বেছে নিয়েছি।”
এদিকে খরস্রোতা পদ্মার পানি তখন প্রচণ্ড বেগে বইছিল। তবুও আটজন শিক্ষার্থী নদীতে নামেন। নামার কিছুক্ষণ পরই তিনজন শিক্ষার্থী স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহত হন। স্থানীয়রা ও স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোলা–বরিশালের মানুষ যোগাযোগ অবহেলায় ভুগছি। সেতু আমাদের ন্যায্য দাবি। হাঁটতে না দিলে সাঁতরেই দাবি জানাব।”
এসময় এলাকাবাসী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নদীতে নামতে বারবার নিষেধ করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসন এসে বাকি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং সেতু নির্মাণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮