প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬, ১১:৫৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৬, ৯:১৪ পি.এম

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি পেশিশক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। মামলা করতে এলে বলবেন—শফিকুর রহমানের নামেই মামলা করুন।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাস করতে পারবেন।
শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুবকরা জুলাই আন্দোলনে না নামলে ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়ন করা সম্ভব হতো না। তাই আগামীতেও যুবসমাজকে জেগে উঠতে হবে। এই আন্দোলন ও লড়াই তাদের নিয়েই এগিয়ে নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এই যুবকদের হাতেই দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চাই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে সবার জন্য সমান বিচার থাকবে এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে বিচারহীনতা ও বৈষম্য বেড়েছে। তার দাবি, বর্তমানে বিচার ব্যবস্থায় টাকার প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট বেশি কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা এমন বিচার ব্যবস্থা চাই যেখানে সাধারণ মানুষের মতো ক্ষমতাবানদেরও একই আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রীও ছাড় পাবেন না।
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের সম্পদ। তা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অতীতে বঞ্চিত অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতা নয়, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি তরুণদের ভোটাধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং তাদের সম্মানের নিশ্চয়তা থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি পেশিশক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। মামলা করতে এলে বলবেন শফিকুর রহমানের নামেই মামলা করুন।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি নেই। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাস করতে পারবেন।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে প্রত্যেকটা ভোটের পাহারাদারী করতে হবে। এবার আর কাউকে ভোট কেড়ে নিতে দেয়া হবে না। কেউ যদি তা কেড়ে নিতে আসে তাহলে সে হাতটা ধরে ফেলবেন মোচড়ায়ে ফেলবেন। আর এজন্য মামলা আপনাদের বিরুদ্ধে হবে না। কেউ মামলা করলে বলে দিবেন শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। সারাদেশে যুককদের জাগতে হবে, সকলের অধিকার কায়েম করতে হবে, বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি জুলাই আন্দোলনে তরুণ ও যুবকদের প্রাণ উল্লেখ করে বলেন, তোমোদের প্রতিদান আমি দিতে পারবো না। কিন্তু বেকার ভাতাও দিয়েও তোমাদের বেইজ্জত করবো। তবে খুব শীঘ্রই দেশের দায়িত্বভার তোমাদের হাতে তুলে দেবে।
আমামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হবে আশা ব্যক্ত করে আমীরে জামায়াত শফিকুর রহমান ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করা হবে বলেও উল্লেখ করেন। বক্তব্য শেষে তিনি ঝালকাঠি-১ আসনে ডক্টর ফয়জুল হক ও ঝালকাঠি-২ আসনে শেখ নেয়ামুল করিমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-২ আসনের শেখ নেয়ামুল করিম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু, এবি শ্রমিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর এই নির্বাচনী জনসভায় দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে বয়েজ স্কুল মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে।