দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। এই প্রতিবেদন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বাজারের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২২ ডলারে উঠেছে। এর আগে বুধবার প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুটির দাম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার্সের দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দুর্বলতা এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ কয়েক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে যাওয়ায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ডলারের দাম কমলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ননফার্ম পেরোলস বা বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হবে। এর আগে বুধবার প্রকাশিত এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্টে আগস্টে দেশটির বেসরকারি খাতে মাঝারি হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায়।
টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে এবং সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে গেলে স্বর্ণের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
তার মতে, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলারের ওপরে ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী সময়ে ৪ হাজার ৫০০ এবং ৪ হাজার ৭০০ ডলারের দিকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ হিসেবে দেখছে বাজার।
ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে কিছুটা উন্নতি এবং পণ্যের দামে মাঝারি বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তে এসব তথ্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা আয় না দেওয়া স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয়ও বেড়ে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দামের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৭৯ ডলার, প্লাটিনাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৫৮ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮