দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী দিনে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে—তা বোঝার অপেক্ষায় এখন বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা। আর এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারেও।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।
তবে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৪ ডলারের বেশি হয়েছিল। যা গত ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিনিয়োগকারীদের মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-এর তথ্য। এরপর বৃহস্পতিবার আসবে উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই-এর পরিসংখ্যান।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না, এসব তথ্য থেকে তার ধারণা পাওয়া যাবে। আর সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতির বিষয়ে বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
সাধারণত সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার কমলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর সেপ্টেম্বরের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় পরিবর্তন আসে। এর প্রভাবে গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
তবে এখন বাজার অপেক্ষা করছে নতুন মূল্যস্ফীতির তথ্যের জন্য।
অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়েও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান, ফেডের সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই এখন স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮