স্পোর্টস ডেস্ক,
বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ দেখতে কত টাকা খরচ করা যায়? সাধারণ সমর্থকদের কাছে উত্তরটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, অতি-ধনীদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ প্যাকেজ বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখ মার্কিন ডলারে—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। অবাক করার বিষয়, ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্যাকেজটি বিক্রি হয়ে যায়।
এই বিশেষ সুবিধা দেয় বিলাসবহুল ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান নাইটসব্রিজ সার্কেল। প্যাকেজে ছিল মাঠের মাঝখানে সামনের সারির ছয়টি আসন এবং ফাইনাল শেষে বিজয়ী দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তে মাঠে প্রবেশের বিরল সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অভিজ্ঞতা এর আগে কখনও দেওয়া হয়নি এবং এটি ছিল শুধুমাত্র আমন্ত্রিত ও যাচাইকৃত সদস্যদের জন্য।
প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্ট ম্যাকনিল বলেন, গত ২২ বছরের অভিজ্ঞতায় এবারই প্রথম তিনি দেখেছেন, অর্থের বিনিময়ে প্রায় সব ধরনের এক্সক্লুসিভ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। তার ভাষায়, এই বাজারে এখন চাহিদা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
বিশ্বকাপে অতি-ধনী দর্শকদের অভিজ্ঞতা সাধারণ সমর্থকদের থেকে একেবারেই আলাদা। তারা ব্যক্তিগত জেটে এক শহর থেকে আরেক শহরে যান, হেলিকপ্টার বা লিমোজিনে স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং আলাদা ভিআইপি প্রবেশপথ ব্যবহার করেন। শেষ মুহূর্তে ম্যাচ দেখার সিদ্ধান্ত নিলেও তাদের জন্য টিকিট, পরিবহন ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
ম্যাকনিল জানান, তাদের ক্লায়েন্টদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিলিয়নিয়ার, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, সেলিব্রিটি, ক্রীড়াবিদ ও শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। গোপনীয়তার কারণে অবশ্য তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না।
সব প্যাকেজের দাম অবশ্য কোটি ডলারে নয়। বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ম্যাগমা গ্লোবাল–এর তথ্য অনুযায়ী, দুই জনের জন্য পাঁচতারকা হোটেল, বিজনেস ক্লাস ফ্লাইট, ম্যাচের টিকিট ও ব্যক্তিগত পরিবহনসহ একটি প্যাকেজের মূল্য ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে একাধিক শহর, ব্যক্তিগত বিমান বা হেলিকপ্টার এবং অতিরিক্ত সেবা যুক্ত হলে সেই ব্যয় সহজেই কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছে যায়।
নিউইয়র্কভিত্তিক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ইন সার্ভিস ট্র্যাভেল–এর স্ট্র্যাটেজি ডিরেক্টর জিনা গ্যাবার্ড জানান, ভিআইপি প্যাকেজে শুধু ম্যাচ দেখা নয়, ব্যক্তিগত লাউঞ্জ, বিশ্বমানের শেফের খাবার, এমনকি সাবেক বা বর্তমান ফুটবলারদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের সুযোগও থাকতে পারে। তার মতে, কিছু বিশেষ প্যাকেজের মূল্য কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শ্রেণির গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থ নয়; বরং সময়, গোপনীয়তা এবং একান্ত অভিজ্ঞতা। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, ভিড় কিংবা সময় নষ্ট করতে চান না। তাই আলাদা প্রবেশপথ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিলাসবহুল লাউঞ্জ এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতেও দ্বিধা করেন না।
আর যারা ৪০ লাখ ডলারের সেই বিশেষ প্যাকেজটি হাতছাড়া করেছেন, তাদের জন্যও রয়েছে আরেকটি বিকল্প। ফাইনালের মাঠের একেবারে পাশের দুটি এক্সক্লুসিভ আসন বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি আসনের মূল্য ১৫ লাখ মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি।
বিশ্বকাপ তাই শুধু ফুটবলের মহোৎসবই নয়, অতি-ধনীদের জন্য বিলাসিতা, একান্ত অভিজ্ঞতা এবং অর্থের বিনিময়ে অসাধারণ সুযোগ কেনার এক বিশাল বাজারেও পরিণত হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮