আরিফ আহমেদ,
মৃৎশিল্পীদের মতোই অবস্থা হয়েছে বরিশালে সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ এর উদ্যোগে এবং মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা বরিশাল আয়োজিত ১৭ তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন উৎসবের। যেখানে তিনদিন ব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে মেতে ওঠে অশ্বিনী কুমার টাউনহলের আঙ্গিনাসহ মিলনায়তন। সেখানে আজ ১৬ অক্টোবর বরিশাল কলেজের পিছনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ছোট্ট পরিসরে অর্ধবেলার জন্য অনুষ্ঠিত হলো এই উৎসব। আয়োজক সুশান্ত ঘোষ বললেন, দুর্গোৎসব ও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, সংক্ষিপ্ত ভাবে উৎসব ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তবে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর ছেলে মঈনুল আবেদীন জানালেন, এই শিল্পটি যে এখনো টিকে আছে, তা এই সুশান্ত ঘোষদের মতো কয়েকজন মানুষের জন্য। এটি তো এখন বিলুপ্ত একটি শিল্প বলা যায়।
এদিকে উৎসবে অতিথি দর্শক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বরিশালের প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরাও। সাংবাদিক সাহিত্যিক অরূপ তালুকদার, ছড়াকার ও আবৃত্তি শিল্পী দীপঙ্কর চক্রবর্তী, কবি হেনরী স্বপন, সাংবাদিক সাহিত্যিক আরিফ আহমেদ, রাজনৈতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে।
তাদের বক্তব্যেও ছিলো এই শিল্পটিকে বাঁচানোর জন্য সরকারী উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ ও দলমতের উর্ধে উঠে তা বাস্তবায়নের আহ্বান।
চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ জন মৃৎশিল্পী এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের যে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হয়েছে, সেখানে টেপা পুতুল ও টেপা হাড়িসহ কিছু পুজোর উপকরণই বেশি দেখা গেছে। অবশ্য বরিশাল অঞ্চলের মৃৎশিল্পীদের তৈরি রান্নার উপকরণ মাটির ঢাকনা, হাঁড়িপাতিল ও কয়েলদানিও ছিলো একটি টেবিলে।
এসব উপকরণই বলে দেয় মৃৎশিল্পের বর্তমান অবস্থা। শিল্পীদের বেশিরভাগ অংশই এখন আর শুধু এই পেশা নিয়ে পরে নেই বলে জানান। তারা বলেন, জীবীকার প্রয়োজনে আমাদের অনেকেই এখন অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাচ্ছেন, কেউ কেউ চাকুরী নিয়ে চলে গেছেন, আর আমাদের সন্তানরা এই পেচার নাম শুনলেও পালিয়ে যায়।
সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ গত ১৭ বছর ধরে মৃৎশিল্পীদের একত্রিত করে এই সম্মেলন ও সম্মাননা উৎসবের আয়োজন করে আসছেন। তার এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে অনেক শ্রম, ত্যাগ ও অর্থের বিনিয়োগ। প্রতিবারের আয়োজনে স্থানীয় ভাবে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্রমশ জনপ্রিয় ও জাতীয় অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিলো এই মৃৎশিল্পী সম্মেলনটি।
এবারই যেন এই আয়োজনের দারিদ্রতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশীদার এই শিল্পের প্রতি তাই যত্নশীল হবার আহ্বান জানিয়েছেন উৎসবে আসা অতিথি, মৃৎশিল্পীসহ প্রতিজন মানুষ।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮