সোহানুর রহমান বাপ্পি, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান বলেছেন, “পুলিশ হয়ে গেছে এখন বানরের মতো। রিকশাওয়ালার মার খায় পুলিশ। বানরের খাঁচায় বন্দি করে নাচাচ্ছে আমাদের। আমি অন্য চাকরির চিন্তা করছি।”
গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কটিয়াদী মডেল থানায় এক পিকনিকের আয়োজন করা হয়। পিকনিকের পর পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খানসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নেন। অসুস্থদের মধ্যে ছিলেন হাবিবুল্লাহ খান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাছেদ মিয়া, কনস্টেবল উজ্জ্বল মিয়া, কাওসার মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, সোহাগ মিয়া, সাথী আক্তার ও মো. ওয়াসিমসহ আরও কয়েকজন।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সাংবাদিকরা ওই রাতে থানায় গিয়ে হাবিবুল্লাহ খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,
“আমি অসুস্থ ছিলাম কখন? যিনি রিপোর্ট করেছেন, তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। থানায় যদি পিকনিক হয়, সেটা কি নিউজ করার বিষয়?”
সাংবাদিকরা তখন যুক্তি দেন, থানার সদস্যরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাই বিষয়টি সংবাদযোগ্য। জবাবে তিনি বলেন,
“ধরে নিন আমরা থানায় পিকনিক করেছি। এতে কারও কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেছি? নিজের টাকায় খাওয়ার অধিকার তো আছে!”
সাংবাদিকরা বিদায় নিতে উদ্যত হলে হাবিবুল্লাহ খান বলেন,
“পুলিশ হয়ে গেছে এখন বানরের মতো। রিকশাওয়ালার মার খায় পুলিশ। বানরের খাঁচায় বন্দি করে নাচাচ্ছে আমাদের। আমি অন্য চাকরির চিন্তা করছি।”
সাংবাদিকরা তার মন্তব্যে আপত্তি জানালে তিনি আরও যোগ করেন,
“বানর হয়ে গেছি তো এখন, তাই বললাম।”
তবে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন মন্তব্য করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন,
“এভাবে কথা বলা সমীচীন নয়। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হতে পারেন না। বিপক্ষে নিউজ হলে তিনি সংশোধন হতে পারেন। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে চাকরি করবেন কি করবেন না, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।”
স্থানীয় সাংবাদিক মহল বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “আইনের রক্ষক হিসেবে পুলিশের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়।”
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮