
সালমান মির্জা, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোরিকশা চালক রাজিব হোসেন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল বাওয়াতীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের সময় আসামির সঙ্গে থাকা তার একটি পোষা বানরকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধার
গত ১ মে সকালে প্রতিদিনের মতোই অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ রাজিব হোসেন। কিন্তু দিন শেষে তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ২ মে সকালে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের একটি নির্জন সুপারি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মোস্তফা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তি
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে ৩০০ টাকায় রাজিবের অটোরিকশাটি ভাড়া করেছিলেন সোহেল। পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, কেওড়াডুগি এলাকায় নিয়ে অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান সোহেল। রাজিব বাধা দিলে তাকে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার (৪ মে) চাঁদপুরের বাঘাদি এলাকা থেকে অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
সঙ্গী যখন পোষা বানর
গ্রেপ্তারের সময় সোহেলের সঙ্গে তার একটি পোষা বানর ছিল। আদালতে নেওয়ার সময়ও বানরটি তার সঙ্গেই ছিল। মালিক ছাড়া অন্য কারো সংস্পর্শে বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করায় পুলিশ সেটিকে সামলাতে কিছুটা হিমশিম খায়। বানরটিকে এক নজর দেখতে থানা ও আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা প্রাণীটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কিনা। এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে রাজিবের পরিবার এখন শোকাচ্ছন্ন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮