এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।
স্থানীয় আদিবাসী জুম্মোর প্রতিরোধের মুখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃপক্ষ তাদের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার থেকে সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যবৃন্দ বর্ডার রোড নির্মান কাজ শুরু করার সময় স্থানীয় জুম্মোদের পুরুষ ও মহিলারা জমায়েত হযে তাদের বাড়ি, জমি এবং সুরক্ষা দাবি করতে স্পট বৃক্ষ রোপণ। সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের কাজ বন্ধ করার দাবিতে ফের বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রতিরোধে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলে।
এক সময় মারিশ্য ২৭ বিজিবি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ শরিফুল আবেদ (এসজিপি) ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তার কাছাকাছি রাস্তা নির্মাণ কাজের বিরুদ্ধে আবারও প্রতিবাদ শুরু করেছে সীমান্ত সড়কের কাজ বন্ধের দাবি জানান স্থানীয় গ্রামবাসীছরা। এরপর সড়ক নির্মাণ কাজ স্থগিত ঘোষণা করেন সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে বিজিবির জোন কমান্ডার স্থানীয় জুম্মো মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা ও ক্ষতির তালিকা জমা দিতে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখবো কি করা যায়।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত ৩১ জুলাই ২০২২ ২৭ বিজিবি মারিশ্য জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ শরিফুল আবেদ (এসজিপি) এই সীমান্ত সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এর পরেই তার উপস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ২০তম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সদস্যরা আরিয়াপুর রোড এলাকায় বুলডোজার ও ট্রাক্টর দিয়ে আদিবাসী জুম্মো গ্রামবাসীর দোকান ও মূল্যবান গাছগুলি জোরপূর্বক ধ্বংস করে দেয় এবং বন বিহার ও সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে।
এই সময় বাঘাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিভ চাকমার নেতৃত্বে স্থানীয় জুম্মো গ্রামবাসীরা জুম্মো মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আবেদ (পিএসসি)কে এই রাস্তা নির্মান কাজের প্রতিবাদ করেন এবং জোর দাবী করেন । অথচ স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভ ও দাবি না মেনেই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনীরা।
গ্রামবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (০৩ আগস্ট ২০২২) সকাল পর্যন্ত বুলডোজার ও ট্রাক্টর দিয়ে নির্মাণাধীন রাস্তার সংলগ্ন এলাকায় এক জুম্মো গ্রামবাসীর একটি দোকান ও প্রায় এক হাজার (১০০০) আগর ও সেগুন গাছ ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনীরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আরিয়াপুর দোকান রোড থেকে কোজইছড়ি মুখ পর্যন্ত ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মাণ করা হবে, প্রায় ৪ কি.মি. দূরত্বে এবং জুম্মো গ্রামবাসীদের কমপক্ষে ৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরবোয়াতলি ইউনিয়নের টাংকুম মুখ ব্রিজ থেকে কোজইছড়ি বিজিবি ক্যাম্পের রাস্তার সাথে এই রাস্তা সংযোগ হবে।
বর্তমানে সাইটটিতে ১০ ফুট চওড়া ইট পাকা রাস্তা এবং রাস্তায় গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। রাস্তাটি ৩০ ফুট চওড়া করে ক্ষতি করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
উল্লেখ্য যে, ৩১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮