ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার আরএস ২৬৭০/৭২ (সম্পূর্ণ) ও ২৯৫৬ দাগের (আংশিক) প্রায় ১০.৬৪ একর পাহাড়টি এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানাধীন এই বিশাল পাহাড়টির একাংশ কেটে দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণের পর এবার বাকি অংশ সাবাড় করার উৎসবে মেতেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র। মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম উদাসীনতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ও.আর. নিজাম আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় অবস্থিত এই পাহাড়টির বড় একটি অংশ ‘সোহেল’ নামক এক ব্যক্তি ইতিপূর্বে কেটে দখল করে নেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সেমি-পাকা স্থাপনা। সম্প্রতি পুনরায় পাহাড় কাটার কাজ শুরু হলে এক সচেতন পরিবেশ কর্মীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মুত্তাদির হাসানকে অবহিত করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠান পরিদর্শক অন্তর সাহা ও রুম্পা শিকদারকে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড় কাটার এবং অবৈধ দখলের সত্যতা পান কর্মকর্তারা।
অভিযুক্তের ঔদ্ধত্য ও সরকারি কাজে বাধা
অভিযান চলাকালীন অভিযুক্ত সোহেলকে পাহাড় কাটার দায়ে নোটিশ প্রদান করতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মকর্তারা থানা পুলিশের সহায়তায় আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০.৬৪ একরের এই বিশাল পাহাড়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা পাহাড় রক্ষার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্রের এত বড় একটি সম্পদ রক্ষায় খোদ মালিক পক্ষের এমন নির্লিপ্ততা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় এটি ভূমিদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
জনবল সংকটে পরিবেশ অধিদপ্তর
পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে বিশাল এলাকার পাহাড় রক্ষা বা ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। সীমিত লোকবল দিয়ে সব সময় তদারকি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পাহাড়খেকোরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে।
পরিবেশবিদদের শঙ্কা
পরিবেশবিদদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি অতিদ্রুত তাদের নিজস্ব এই সম্পত্তি রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না করে, তবে অচিরেই এই ১০ একর পাহাড়টি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। পুরো এলাকাটি পাহাড় কেটে আবাসিক প্লটে পরিণত করার পাঁয়তারা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)"র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অবিলম্বে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮