আরিফ আহমেদ,
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বসিক) প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। কখনো হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন, কখনো কাঞ্চন পার্ক কিম্বা নগরীর বগুড়া রোডে ফুটপাতসংলগ্ন স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ, এজাতীয় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ছেন তিনি। এসব ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ভুল পরামর্শের পাশাপাশি আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে নগর জুড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দলীয় নেতা ও নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রশাসক শিরিনের আশপাশে থাকা কিছু ব্যক্তি তাকে বিতর্কিত করে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ তৈরি করছেন। তাদের এই ষড়যন্ত্রের পিছনে শক্তিশালী কারো যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে নগরবাসীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন শিরিন। তার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নগরবাসীর কেউ কেউ তার কাজের ধরনের সঙ্গে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের কর্মতৎপরতার মিল খুঁজে পান। এমনকি আগামী মেয়র নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য পুরুষ প্রার্থীদের তুলনায় শিরিনের জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসক হিসেবে শিরিনের কর্মতৎপরতা এবং সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসা, দুটি বিষয় মিলিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনা থেকে কারও মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে কি না, কিংবা সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সরাসরি বলা ঠিক হবেনা বলে মনে করেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব খানের অভিযোগ, শিরিনের বিরোধিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজ দলের একটি অংশের মধ্যেও তাকে নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের ভেতরে যাদের ওপর প্রশাসক নির্ভর করছেন, তাদের কারও কারও অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং স্বার্থের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। ভুল পরামর্শ দিয়ে প্রশাসককে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বগুড়া রোডে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরীন। তার বক্তব্য, ওই স্থানে ভবন নির্মাণের পরামর্শ কে দিয়েছেন এবং জায়গাটি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা খুঁজে দেখা কঠিন নয়। তার অভিযোগ, ওখানে জায়গার পরিমাপেও গরমিল রয়েছে। এরাই শিরিন এর ক্ষতি করছে। নাসরীন বলেন, প্রশাসক শিরিনের শত্রু তারা নন, তারা সবাই তারেক রহমানের আদর্শের রাজনীতি করেন এবং দিনশেষে শিরিনের আপনজন তারাই।
অন্যদিকে প্রশাসক শিরিন নিজেও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, স্থানীয় নেতাদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। বগুড়া রোডে তার উদ্যোগের বিরোধিতাকারীদের কেউ ওই এলাকার বাসিন্দা নন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে কারা কীভাবে ষড়যন্ত্র করছেন তা স্পষ্ট করেননি শিরিন।
আগামী মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় আসার সঙ্গে এসব বিতর্কের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থনে ব্যানার-পোস্টারও দেখা যাচ্ছে। আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এমপি, আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ এবং জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীনসহ একাধিক নেতা।
সমর্থকদের প্রচারণায় তাদের সবাইকে মেয়র পদে দেখতে চাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এসব প্রচারণা নির্বাচনের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক হলেও তা দলীয় বিভাজনে রূপ নিয়েছে কি না, কিংবা প্রশাসক শিরিনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরির পেছনে এদের কারও নির্বাচনী স্বার্থ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্যে এ নিয়ে বিভাজন বা দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে বসিক প্রশাসক শিরিনের বক্তব্য, সমর্থকেরা কাকে চান, তার চেয়ে দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাকে যোগ্য মনে করেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় মনোনয়ন যিনি পাবেন, তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্যে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক অবশ্য দলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আমিও মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। তবে এ সিদ্ধান্ততো আমি আপনি নিলেই হবেনা। দলীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, দলীয় প্রধান রয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্ত যা হবে তা মেনে নিয়ে দলীয় স্বার্থ রক্ষাই আমাদের কাজ হওয়া উচিত বলে জানান মনিরুজ্জামান ফারুক।
অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের বিএনপির অবিভাবক দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার মেয়র নির্বাচন নিয়ে আগাম প্রচারণা না চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর বরিশাল থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা কেন্দ্র নির্ধারণ করবে। এর আগে এ নিয়ে প্রচারণা না চালানোই দলের জন্য উত্তম।
সরোয়ার আরও বলেন, সিটি করপোরেশন নিয়ে তার কোনো চিন্তাভাবনা নেই। প্রশাসক শিরিনের কোথাও তার সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সরাসরি জানালে তিনি সাধ্যমতো সহায়তা করবেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, অযোগ্য ব্যক্তিদের নেতা হিসেবে তুলে ধরলে সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্যে মেয়র নির্বাচন ঘিরে আগাম প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান ফুটে উঠেছে।
এদিকে হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক প্রশাসক শিরিনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। গত এপ্রিলে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। পরে গত ৯ জুলাই নগর ভবনের পেছনে ৮৬টি এবং কেডিসি সড়কে ৫৬টি স্টলের উদ্বোধন করা হয়। প্রশাসকের নির্দেশনা ছিল, প্রকৃত ভাসমান হকারদের এসব স্টল বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু কয়েক মাস পরও পুনর্বাসন কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় হকারদের একটি অংশ আবারও সড়ক ও ফুটপাতে বসতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর নগর ভবনের পেছনে নির্মিত অস্থায়ী স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি স্টলের ভেতরে মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের পুকুরপাড়সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাতের পাশে হকারদের আবারও পণ্য নিয়ে বসতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজন জানান, প্রায় চার মাস অপেক্ষা করেও স্টল বুঝে পাননি। তাদের দাবি, নগর ভবন এলাকার ৭২ জন হকারের কেউই এখন পর্যন্ত স্টল পাননি।
হকারদের অভিযোগ, স্থানীয় বা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিএনপি নেতাদের স্টল বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা তা বাস্তবায়ন করেননি। তাদের আরও দাবি, স্টলগুলো ছোট হওয়ায় ওখানে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। কমপক্ষে পাঁচ ফুট জায়গার প্রয়োজনের কথা জানালেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কেডিসি সড়কের ৫৬টি স্টল নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। হকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্টল পেতে ২০ হাজার টাকা জামানত ও মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অনুযায়ী, এগুলো অস্থায়ী স্টল নয়, স্থায়ী দোকান। ইতিমধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুটপাতের দোকানদার স্টল বুঝে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বেলস পার্কের ভাসমান হকারদের কেউ এখানে স্টল পায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী চান জানান, কেডিসি সড়কের স্টল নির্মাণে তিনি নিজেও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেলস পার্কের ২২ জন ভাসমান হকার এবং এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু জামানতের পরিমাণ নিয়ে প্রথমে ৫০ হাজার, পরে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের আলোচনা ওঠে। প্রশাসক শিরিন তা কমিয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, স্থানীয় কিছু নেতার তৎপরতায় প্রকৃত হকারদের পুনর্বাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অন্য ব্যক্তিদের স্টল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বেলস পার্কে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবারও পার্কের মাঠে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। তাদের বক্তব্য, বাদাম, শরবত ও চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। ২০ হাজার টাকা জামানত দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই।
হকারদের দাবি, বিনামূল্যে বা সামর্থ্য অনুযায়ী পুনর্বাসনের কথা ছিল। ফলে স্টল নির্মাণের পরও প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হকারদের এসব অভিযোগ প্রমাণিত সত্য। তাই নিশ্চিন্তে বলা যায়, বসিক প্রশাসকের আন্তরিকতা স্বত্বেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কারণে পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের ধারণা, প্রকৃত হকারদের বাদ দিয়ে অন্যদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হলে তার দায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসক শিরিনের ওপরই বর্তাবে। একই ঘটনা ঘটেছে নগরীর কাঞ্চন পার্ক ও বগুড়া রোডের বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টায়। এ উদ্যোগ নিয়েও একইভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শদাতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তি এবং বিএনপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের পর উদ্যোগটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ মনে করছেন, এমন বিতর্ক প্রশাসক শিরিনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে এ উদ্যোগের পেছনে কারও নির্বাচনী স্বার্থ কাজ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি, জায়গার পরিমাপ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা জরুরি বলে মনে করেন অনেকে।
এদিকে গত ৯ অক্টোবর নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা ও বড় দোকানের সামনে অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা। বসিকের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লকিতুল্লাহ জানান, প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চৌমাথা এলাকার বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর বলেন, প্রশাসক শিরিন একই এলাকায় একাধিকবার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করলেও কিছুদিন পর আবার দোকান বসানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না থাকায় উচ্ছেদ অভিযান স্থায়ী ফল দিচ্ছে না। তাদের এ বক্তব্যের সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত অভিযোগ মিলিয়ে নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসকের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক পরস্পরের সঙ্গে মিলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণা, অন্যদিকে প্রশাসকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, এ দুটি বিষয়ই বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে দলীয় বিভাজন কতটা গভীর, কারা এতে জড়িত এবং প্রশাসককে বিতর্কিত করার পেছনে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, হকার পুনর্বাসনের বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ, স্টল নির্মাণ ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া যাচাই, বগুড়া রোডে ভবন নির্মাণের স্থান ও পরিমাপসংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে প্রশাসকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
আগামী মেয়র নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার কারণে নগর উন্নয়ন, হকারদের জীবিকা কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮