আরিফ আহমেদ,
বরিশাল জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা প্রায় ১১ কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আটকে আছে। টাকা ফেরত চেয়ে জেলা পরিষদ একাধিকবার লিখিতভাবে তাগাদা দিয়েছে, দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ ফেরত চেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে। এর জবাবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকটির তারল্য সংকট এখনো কাটেনি। ফলে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের বেশিরভাগ বড় গ্রাহকদের সাথেই একই আচরণ করছে ব্যাংকটি। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে অনাস্থা ও ক্ষোভ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশিরভাগ গ্রাহক তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবী করেছেন বলেও জানা গেছে।
বরিশাল জেলা পরিষদের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় জেলা পরিষদের দুটি সেভিংস হিসাবে বিপুল অর্থ জমা রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ০০১৩৩৪০৭৫২১১ নম্বর হিসাবে জমা ছিল ৬ কোটি ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা ৪১ পয়সা এবং ০০১৩৩৪০৭৮৬২৭ নম্বর হিসাবে জমা ছিল ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার ১৮৮ টাকা ৪৫ পয়সা। দুই হিসাবে মোট অর্থ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রায় ১১ কোটি টাকা।
এর আগে ৪ জুন ২০২৫ তারিখে জেলা পরিষদের ৪৬.১০.১০০৬.০০১.৯৯.০২২.২৪.২৪৫ নম্বর স্মারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমাকৃত অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওই চিঠিতে প্রথম হিসাবে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৭ টাকা ১৮ পয়সা এবং দ্বিতীয় হিসাবে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩১ হাজার ৩০৬ টাকা ৭০ পয়সা জমা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ তখন দুই হিসাবে মোট জমা ছিল ১০ কোটি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ৮০৩ টাকা ৮৮ পয়সা।
জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, বরিশাল বরাবরে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে পরবর্তী চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা পরিষদের ৪৬.১০.১০০৬.০০১.১৮.০১১.২৪.৪১১ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে আবারও বিষয়টি তোলা হয়। এতে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হিসাবে জমা থাকা মোট ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় বলা হয়।
জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, জমাকৃত অর্থের পে-অর্ডার না পাওয়ায় জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
এর জবাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়, তাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনো কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের অর্থ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ব্যাংকের ওই জবাবে আরও বলা হয়, অচিরেই তারল্য সংকটের সমাধান হবে বলে প্রধান কার্যালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।
অর্থাৎ জেলা পরিষদের নথিতে থাকা ব্যাংকের লিখিত জবাবেই ব্যাংকের তারল্য সংকটের বিষয়টি সরাসরি উঠে এসেছে। এরপরই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।
জেলা পরিষদের নথিতে দেখা যায়, তাদের একটি প্রকল্পের ব্যয় বাবদ মোঃ শহিদুল ইসলাম, সভাপতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, নলশ্রী-দিদিহার- নেছারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহের অনুকূলে NSBK 4645372 নম্বরের একটি চেকের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ওই চেকের অর্থ পরিশোধ না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি প্রত্যাখ্যান করে দেয় বলে জেলা পরিষদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চেকটি ঠিক কী কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সে কারণ নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই এটিকে সরাসরি তারল্য সংকটের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে একই সময়ে জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জেলা পরিষদের পক্ষে আইনজীবী আলহাজ্ব মোঃ আলী আহমেদ ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেন।
লিগ্যাল নোটিশে জেলা পরিষদের পূর্বের চিঠি এবং ব্যাংকের দেওয়া জবাবের বিষয় তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদকে জানিয়েছিল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনো কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই জবাবের পর জেলা পরিষদের প্রকল্প ব্যয়ের ১ লাখ টাকার একটি চেকও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়।
লিগ্যাল নোটিশে ব্যাংককে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের জমাকৃত সমুদয় অর্থ এক বা দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথাও বলা হয় নোটিশে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, জেলা পরিষদের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ কোটি টাকা যদি দীর্ঘ সময় ধরে ফেরত দেওয়া না যায়, তাহলে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি আসলে কতটা সংকটপূর্ণ?
জেলা পরিষদের প্রশাসকও জানিয়েছেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে ন্যাশনাল ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে কখনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি, আবার কখনো চেয়ারম্যানের অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের সময় যদি চেয়ারম্যান কিংবা এমডির অনুমোদনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে সেই আমানত ফেরত দেওয়ার সময় কেন তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে?
যদি বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে, তাহলে সেই নিয়মের লিখিত ভিত্তি কী? এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন। কত টাকা পর্যন্ত শাখা নিজস্ব ক্ষমতায় পরিশোধ করতে পারে এবং কোন অঙ্কের পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন, সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
কারণ বরিশাল জেলা পরিষদের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত আমানত নয়; এটি সরকারি অর্থ। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিল পরিশোধ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে এই অর্থ ব্যবহারের কথা। ব্যাংকে অর্থ আটকে থাকার কারণে যদি প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা না যায়, তাহলে এর প্রভাব পড়ছে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রমে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও এ ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতিও প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা বলে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে একদিকে বিপুল খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতি, অন্যদিকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অভিযোগ, সব মিলিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
শুধু বরিশাল জেলা পরিষদ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকেরাও নিজেদের জমা টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা আটকে থাকার ঘটনাটি ব্যাংকটির বৃহত্তর তারল্য পরিস্থিতির একটি স্থানীয় চিত্র কি না, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান সংকট অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ এবং সুশাসন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাও রয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকায় সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এত বড় অঙ্কের ঋণ অনিয়মের অভিযোগ ব্যাংকটির অতীত পরিচালনা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। পরবর্তী সময়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয় এবং আবারও পরিবর্তন আসে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের ৫৩৯তম বোর্ড সভায় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু পদত্যাগ করলে তার স্থানে অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি এর আগে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। তবে এই ব্যাংকের সাবেক একাধিক চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে। যদিও বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে অতীতের অনিয়মের অভিযোগকে সরাসরি যুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, পর্ষদে পরিবর্তন, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও ব্যাংকের মৌলিক তারল্য সংকট কেন কাটছে না?
আরও বড় প্রশ্ন, বছরের পর বছর জমতে থাকা খেলাপি ঋণের দায় শেষপর্যন্ত কে নেবে এবং তার প্রভাব কেন আমানতকারীদের ওপর পড়বে?
বরিশাল জেলা পরিষদের নথিপত্র বলছে, তারা শুধু মৌখিকভাবে টাকা ফেরত চায়নি। লিখিতভাবে একাধিকবার পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ ফেরত চেয়েছে। ব্যাংকও লিখিতভাবে তারল্য সংকটের কথা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিয়েছে। এরপর দু বছর ধরে অর্থ ফেরত না পাওয়ায় শেষপর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের একটি ১ লাখ টাকার চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও ওই চেক প্রত্যাখ্যানের সুনির্দিষ্ট কারণ নথিতে উল্লেখ নেই, তবুও ঘটনাটি জেলা পরিষদের অর্থপ্রবাহ ও প্রকল্পের বিল পরিশোধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এখন ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর আশা করছে বরিশাল জেলা পরিষদসহ ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। জেলা পরিষদের দুটি হিসাবে থাকা অর্থ কেন সময়মতো ফেরত দেওয়া হচ্ছে না? পে-অর্ডার দিতে হলে চেয়ারম্যান বা এমডির অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার লিখিত ভিত্তি কী? জেলা পরিষদের ১ লাখ টাকার চেক কেন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে? ব্যাংকের বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি কতটা সংকটপূর্ণ? এবং প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী?
কারণ আমানতকারীর টাকা কোনো অনুদান নয়, কোনো ঋণও নয়, এটি তার নিজের অর্থ। ব্যাংকের আর্থিক সংকট, খেলাপি ঋণ কিংবা অতীতের পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতার খেসারত কেন আমানতকারীকে নিজের টাকা তুলতে না পারার মাধ্যমে দিতে হবে?
বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা আটকে থাকার ঘটনাটি তাই এখন শুধু একটি ব্যাংক হিসাবের বিষয় নয়। এটি ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, দীর্ঘদিনের ঋণ ব্যবস্থাপনা, তারল্য সংকট এবং আমানতকারীর প্রতি ব্যাংকের দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একই সঙ্গে এটি প্রশ্ন তুলছে- ব্যাংকের পরিচালনায় যারা বছরের পর বছর বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেছেন, সেই ঋণের বড় অংশ খেলাপি হওয়ার পর তার দায়ভার শেষপর্যন্ত কার?
আর সেই দায়ের বোঝা যেন জেলা পরিষদ কিংবা সাধারণ আমানতকারীর কাঁধে না পড়ে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮