রাশেদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি,
চলতি বছরের জুলাইয়ে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। এতে সৃষ্ট বন্যায় নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ছিল কামারচাক ইউনিয়ন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই ইউনিয়নের ৫০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে ৮ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, সুজি ও এক লিটার সয়াবিন তেল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিবারের সদস্যদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক বকশী মিছবাহ উর রহমান এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, এম এ মুকিত, ফখরুল ইসলাম ও হেলু মিয়া, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলুন, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্বাস আলী এবং মৌলভীবাজার সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল মাহমুদ।
‘তালিকা দলীয়ভাবে করা হয়নি’
অনুষ্ঠানে এম নাসের রহমান বলেন, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কামারচাক ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে এসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা দলীয়ভাবে করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেড ক্রিসেন্টের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রান্তিক ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান।

'বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা'
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, বন্যার পর রাজনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকায় কামারচাক ইউনিয়নের নাম উঠে আসে। পরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঢাকা ও মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের সমন্বয়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হয়।
শ্যামেরকোনা, কড়াইয়া, নোয়াগাঁও, জালালপুর, গোবিন্দপুর, ইসলামপুর ও খাস প্রেমনগর গ্রামের ৫০০ পরিবারকে সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। বিকাশের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ৫০০ পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা।
'মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি'
জুলাইয়ের আকস্মিক বন্যায় মনু নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের অনেকের ঘরবাড়ি মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকে পরনের কাপড় ছাড়া প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে বের হতে পারেননি।
বানের স্রোতে ধান-চাল, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্রসহ ঘরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভেসে যায়। অনেকের ঘরের টিন, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুও পানির তোড়ে ভেসে যায়। পানিবন্দী মানুষ আশ্রয় নেন ওয়াপদা বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়িতে।
বন্যার পানিতে নষ্ট হয় ধানের বীজতলা, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে নদীতীরবর্তী পরিবারগুলোকে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮