উৎপল রক্ষিত,
প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাজীপুরের গ্রাম ও শহরের মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায়।
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকলেও সারাদিনে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত। সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে অন্ধকার, বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান। এতে করে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেকের কাছে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার প্রায় সর্বত্র একই চিত্র। কাপাসিয়ার চারবারিয়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, “বিদ্যুতের অভাবে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। দিন-রাত ঘুমাতেও পারছি না। আমরা গ্রামের মানুষ, কিন্তু আমাদের সমস্যাকে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই না।”
লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। গ্রামে প্রধান পরিবহন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ডিজেলচালিত যানবাহনও জ্বালানি সংকটের কারণে কম চলাচল করছে, ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
কালিয়াকৈরের রঘুনাথপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
কালিয়াকৈরের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, “ প্রচন্ড গরম আর বিদ্যুতের অভাবে ঘরে থাকা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না।”
এ বিষয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাসার আজাদ বলেন, “আমাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৪৮৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩১২ মেগাওয়াট। ফলে ১৭২ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র গরমে গাজীপুরের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮