প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৬, ৫:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৪, ৩:১২ পি.এম
পাবনায় সুরমা লাউ চাষ করে লাভবান কৃষক আমিরুল।।

পাবনা প্রতিনিধি।।
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় পতিত জমিতে বিষমুক্ত সুরমা জাতের লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক আমিরুল ইসলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তাঁর খেতের ফলন ভালো হয়েছে।
আবার বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় লাভবানও হয়েছেন তিনি। এতে কম খরচে লাউ চাষে মুনাফা বেশি হওয়ায় গ্রামের অন্যান্য কৃষকের মধ্যে লাউ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষক আমিরুল ইসলাম পৌরসভার ছাতিয়ানী গ্রামের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ও বীজ সহায়তায় আমি চলিত মৌসুমে বাড়ির পাশের দুই বিঘা অনাবাদি জমিতে সুরমা জাতের লাউ চাষ করেছি।
এতে জমি তৈরি ও মাচা নির্মাণ ৪০-৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এই জমিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেছি।
এতে কীটনাশকের খরচ যেমন বেঁচেছে- অন্যদিকে বিষমুক্ত লাউ উৎপাদন হয়েছে। আমার জমি দেখে এলাকার আরও অনেক কৃষক লাউ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বাজারে এই লাউয়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এই জমি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি।
এ ছাড়া জমিতে যে পরিমাণে লাউ রয়েছে- তাতে সব মিলিয়ে আশা করছি লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারব।
জমিতে লাউ কিনতে আসা স্বপ্ন বলেন- আমি প্রায়ই এখান থেকে লাউ কিনে নিয়ে যাই। আজও দুটি লাউ কিনেছি। সরাসরি জমি থেকে নিজের পছন্দমতো বিষমুক্ত লাউ কিনে নেওয়ার মধ্যেও আত্মতৃপ্তি পাই।
শিক্ষার্থী জামেলা আক্তার রিয়া- নাইম হোসেন- নাইম খান জয় বলেন- এই অঞ্চলের মাটি লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষের খুব উপযোগী। লাউ চাষে কৃষকের খরচ কম হয়। আর এর পরিচর্যা খুবই সহজ।
তাছাড়া প্রয়োজনীয় কৃষি সামগ্রী এখানে সহজলভ্য। এসব সুযোগ সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে কৃষকরা লাউ চাষ করছেন। বাজারে ভালো দর থাকায় কৃষকরা লাউ বিক্রি করে লাভবান হতে পারছেন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদান করছি।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এ ব্লকের কৃষক আমিরুল ইসলামকে বীজ সহায়তা দেওয়া হয়। আমাদের পরামর্শে তিনি সুরমা জাতের লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন।
শুরু থেকে আমরা তাঁর জমি নিয়মিত পরিদর্শন করে আসছি। এ ছাড়া যখন যা পরামর্শ দেওয়া দরকার তাই দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজীব আল মারুফ জানান,
লাউয়ের বীজটি পরীক্ষামূলকভাবে চাষের জন্য উপজেলার কৃষক আমিরুল ইসলাম দেওয়া হয়।
তিনি এই লাউ চাষ করে সফল ও লাভবান হয়েছেন। কৃষক আমিরুল ইসলাম সফলতা দেখে এই লাউ চাষ করার জন্য অন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন- ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্য লাউ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। এই লাউ চাষে কিটনাশকের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এক বিঘা জমিতে লাইয়ের সবুজ পাতার মধ্য সাদা রংয়ের লাউফুল যেন মাঠের শোভা বর্ধন করে আছে। প্রতিটি লাউ বাজারে পাইকারী ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহজে রান্না হওয়া এই লাউ ইতিমধ্যই সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২