প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৪, ১:২৯ পি.এম
পাবনায় ইজ্জতের মূল্য ১ হাজার টাকা ধর্ষকের শাস্তি নাকে খত ও জুতাপেটা।।

পাবনা প্রতিনিধি।।
আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এক গৃহবধু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তার ইজ্জতের মূল্য ১ হাজার টাকা। অভিযুক্ত ধর্ষকের শাস্তি নাকে খত ও জুতা পেটা।
এমন শাস্তির রায় দিয়েছেন পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলী সরদার। এদিকে অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে অবস্থিত চাকলা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। পহেলা ফেব্রুয়ারি দুপুরে এই শালিসী মিমাংসার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গিয়ে ভাইরাল হয়ে গেছে বলে দাবী স্থানীয়দের।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম শফিক প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা জনৈক গৃহবধুর ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন।
এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন টের পেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। এ ঘটনার পরের দিন বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রæয়ারি) চাকলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশী বৈঠক হয়। সেখানে চাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী সরদারের নেতৃত্বে অভিযুক্তকে নাকেখত, জুতাপেটার পাশাপাশি এক হাজার টাকায় ঘটনা মিমাংসা করা হয়।
এসময় ভুক্তভোগীদের পরবর্তীতে কোনো মামলা বা ঝামেলা না করতেও হুমকি দেন চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযুক্ত শফিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর স্বামী আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘মাত্র এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমার স্ত্রীর ইজ্জতের মুল্য কি এক হাজার টাকা? সেখানে আমাকে অনেক ভয় দেখানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান বলেছে- ‘ত্ইু যদি মামলা-মোকাদ্দমায় যাস তাহলে আমি বলে দেব তুই তোর স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাস’, এজন্য আমি প্রথমে পুলিশের কাছে যায়নি। আমি আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ ও তামাসার বিচারের বিচার চাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে চাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী সরদার বলেন, ‘আমার কাছে উভয় পক্ষ আসলে আমি স্থানীয় মেম্বরদের সহযোগিতায় একটি সালিশী বৈঠক করেছি।
সেখানে ধর্ষণের কোনো অভিযোগ ছিল না। তারপরও যেহেতু একজন নারীর ঘুরে বিনা অনুমতিতে ঢুকেছিল এজন্য আমরা তাকে (অভিযুক্ত) কানধরে উঠবোস করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো জরিমানা করা হয়নি।
যে ১ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে সেটা জরিমানা নয়, ওটা গ্রাম্যপুলিশদের খরচ হিসেবে দেয়া হয়েছে। তখন উভয় পক্ষ আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। এখন তারা মানছে না।’
তিনি বলেন, ‘একটি কুচক্রি মহল ও আমার প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। যেহেতু তারা সিদ্ধান্ত না মেনে আইনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন আইনের মাধ্যমে যা হয় তা হবে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
এবিষয়ে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি-রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর গত শনিবার রাতে আমরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম শফিককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২