চঞ্চল,
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর শহরের থানাপাড়ায় অবস্থিত 'মেসার্স রাহিম এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি তেলের ডিপোকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জনবহুল এই এলাকার মধ্যে ডিপোটি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে পরিচালিত হচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি রংপুরে একটি গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণের ঘটনা এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। থানাপাড়া এলাকায় ডিপোটির আশেপাশে ৫১ বিজিবির পাটগ্রাম হেডকোয়ার্টার, একটি মসজিদ, থানা, স্কুল, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ি রয়েছে। ফলে এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, ডিপোটির মালিক, রাহিমুল হক মজুমদার, ২০০৯ সাল থেকে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ২০২০ সালে তিনি একটি নতুন লাইসেন্স নেন। তবে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, একটি তেল ডিপোর চারপাশে ৭ থেকে ১১ মিটার পর্যন্ত ফাঁকা জায়গা থাকার কথা থাকলেও, রাহিম এন্টারপ্রাইজে এই নিয়ম মানা হয়নি। বরং, ভবনটি অন্যান্য কাঠামোর সঙ্গে লাগানো অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে, মালিক মাটির নিচে অবৈধভাবে গভীর ট্যাঙ্কি স্থাপন করে তেল মজুদ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাহিমুল হক মজুমদার দাবি করেন, তিনি সব নিয়ম মেনেই ব্যবসা করছেন। তবে, মাটির নিচে থাকা ট্যাঙ্কি পরিদর্শনের অনুরোধ তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
রংপুরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক অশোক কুমার দাস জানান, তাদের রেকর্ডে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বৈধ। তবে, শর্ত পালন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত দল পাঠানো হবে। যদি শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা বা মামলা করা হতে পারে।
এলাকাবাসী এটিকে "একটি বোমার মতো" উল্লেখ করে জানায়, তারা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকেন। তারা অবিলম্বে এটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি মানা না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির হুমকিও দেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার দাস বলেন, "আইন ও শর্ত অমান্য করে কেউ ব্যবসা করলে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮