এম জালাল, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের পাইকগাছা ভিলেজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমানের ওপর হামলার চেষ্টা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেলেও পরে মুচলেকায় ক্ষমা চেয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পূর্ব শত্রুতার জেরে ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের বাসিন্দা পলাশ গাজী প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমানের পথরোধ করেন। এ সময় তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার খবর বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে উত্তেজিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পলাশ গাজীকে তার বাড়ি থেকে এনে আটকিয়ে রাখেন। এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পলাশ গাজীকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকও থানায় উপস্থিত হন।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল। তবে শিক্ষকতার মর্যাদা, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পলাশ গাজী প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়াবেন না-মর্মে থানায় একটি মুচলেকা দেন। এরপর তার খালাতো ভাই রাসেলের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাসেল বলেন, পলাশ আমার খালাতো ভাই। মুচলেকার মাধ্যমে আমি তাকে আমার জিম্মায় থানা থেকে নিয়ে এসেছি।
পাইকগাছা থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমানের সম্মতিতে মুচলেকার মাধ্যমে ঘটনাটির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮