পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় অবশেষে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ জমি গ্রাম আদালতের শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলিলপত্র যাচাই-বাছাই ও সরেজমিনে মাপজোপ করে প্রকৃত মালিকের কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ লিয়াকত আলীর পুত্র মোঃ ফারুক আহমেদ মিঠু হিতামপুর মৌজায় অবস্থিত তার পৈতৃক সম্পত্তির মালিক। এসএ খতিয়ান ২৫১ ও ২৫৫ এবং বর্তমান বিআরএস খতিয়ান নং ৩১৮, দাগ নং ১০৩২ অনুযায়ী তিনি মোট ৯২ শতক জমির মালিকানা দাবি করেন। মিঠু অভিযোগ করেন, একই এলাকার আরমান শেখের পুত্র মোঃ মনিরউদ্দীন শেখ ও জনিরউদ্দীন শেখ দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির আনুমানিক ৩৩ শতক জমি জবরদখল করে রেখেছিলেন। এ নিয়ে পূর্বে একাধিকবার মামলা-মোকদ্দমাও হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফারুক আহমেদ মিঠু তার বৈধ কাগজপত্রসহ জমি উদ্ধারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাড়ুলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষকে উপস্থিত রেখে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম, ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে মাপজোপ করে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলিলপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানে বিবাদীদের কোনো বৈধ মালিকানা নেই-এ বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়।
পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার পরিমল এবং সার্ভেয়ার জিএম বদরুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ফারুক আহমেদ মিঠু তার পৈতৃক সম্পত্তির মাপজোপ সম্পন্ন করে সেখানে সীমানা নির্ধারণের কাজ চলমান রেখেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য স. ম. ছহিলউদ্দীন, আঃ হামিদ গাজী, মোঃ রমজান আলী সরদার, মোঃ ইলিয়াস মোড়লসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম বলেন, বাদী মিঠু যে দাগ ও খতিয়ানে জমি দাবি করেছেন, দলিলপত্র যাচাই করে সেখানে বিবাদীদের কোনো জমি পাওয়া যায়নি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বাদীপক্ষকে মাপজোপ করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮