প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৬, ২০২৬, ৮:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৪, ২০২৩, ৩:৪১ এ.এম

অরবিন্দ রায়
স্টাফ রিপোর্টার।।
নরসিংদী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে নতুন শিক্ষাক্রমের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক মূল্যায়ন। শিক্ষার্থীদের ভয়, আতঙ্ক কিংবা পড়ার চাপ নয় উৎসব মুখর পরিবেশে বার্ষিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নতুন এ শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের রাত জেগে পড়া লেখা করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হচ্ছে না। নতুন শিক্ষা কার্যক্রমে কোন নম্বর পদ্ধতি নেই। নম্বর ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা যায় তার উদাহারন বর্তমান শিক্ষাক্রম। বর্তমান শিক্ষাক্রমে শেখা ও প্রয়োগ ওপর জোর দেয়া হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী নিজেও নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারবেন।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজামনি জানায়, নতুন কারিকুলাম বাস্তবমুখী শিক্ষা। আমরা যা করি তাই শিখি। আমাদের মুখস্থ করতে হয় না। নিজের হাতে সব কিছু তৈরি করতে পারি।
আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখি নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন পদ্ধতি। কথা বলি প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, বিভিন্ন বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার ও শিক্ষার্থীদের সাথে।
নরসিংদীর শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো, মাসুম বিল্লাহ, সহকারী প্রধান শিক্ষক সুকুমার চন্দ্র কর, সিনিয়র শিক্ষক মো. জসীম উদ্দিন, শিক্ষক প্রতিনিধি নাজমুল শাহীন স্কুলের বার্ষিক মূল্যায়ন পরিদর্শন করেছেন।
পাঁচদোনা স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, নতুন কারিকুলাম আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে। নতুন কারিকুলামে প্রাইভেট ও কোচিং বানিজ্য কমে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ১৯৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে নতুন কারিকুলামে প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্হা এগিয়ে যাচ্ছে।
শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে মূল্যায়নের শেষ দিন আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে " প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরিকৃত বিভিন্ন ধরনের কাগজের বা পাতার ঝালর, পাখি, ফুল, মাছ সহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে। আঙ্গুল পাপেট বা হাত পাপেট দিয়ে বিভিন্ন উপস্হাপনা করে। শিক্ষার্থীরা একক কাজ ও দলীয় কাজ করে। গান, কবিতা আবৃত্তি, একক উপস্থাপনা, দলীয় উপস্থাপনা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। ষষ্ঠ শ্রেণির শীতলক্ষ্যা শাখার শিক্ষার্থীরা বেলুন, ফেষ্টুন ও শিক্ষার্থীদের নিজের হাতে তৈরি করা জিনিস পএ দিয়ে নিজেদের মত করে শ্রেণি কক্ষ সাজিয়েছে।
শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে মূল্যায়নে বন্ধু খাতা তৈরী করা হয়। বন্ধু খাতায় শিক্ষার্থীরা ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ছবি, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য,সহ বিভিন্ন দৃশ্য বন্ধুখাতায় শিক্ষার্থীরা অংকন করেছে।
পলাশ উপজেলার শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার ট্রেইনার শিলা রানী শাখারী জানান, নতুন কারিকুলামে বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি ভঙ্গি, জ্ঞান, যোগ্যতা, দক্ষতা বাড়াবে নতুন শিক্ষা কার্যক্রম। নরসিংদী সদর উপজেলার গনিতের মাস্টার ট্রেইনার আনোয়ার হোসেন জানান আগে শিক্ষার্থীরা গনিত দেখে ভয় পেত। নতুন কারিকুলামে ভয়ের পরিবর্তে বাস্তব প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে গনিতে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
নরসিংদী সদর উপজেলার ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের মাস্টার ট্রেইনার জাকির হোসাইন জানান, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
নতুন কারিকুলামের রুপকল্প হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশ প্রেমিক উৎপাদনমুখী সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলা।
নতুন কারিকুলামে মর্যাদা সামাজিক ন্যায় বিচার সাম্য জাতীয়তাবাদ সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করবে।