আরিফ আহমেদ,
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সম্প্রীতির কথা যদি আমরা বলি, তাহলে বলতে হবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থেই সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও বক্তব্য রয়েছে। আমরা ধর্মগ্রন্থের অনুসরণ করে তা নিয়ে কথা বললে কোথাও কোনো সংঘাত হবে না। কেননা পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থ সর্বশক্তিমান আল্লাহ বা ঈশ্বর এবং মানবতার সেবার কথাই আগে বলেছে। ধর্মীয় নেতারা গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক ও পবিত্র কোরআনের শ্লোক, অনুচ্ছেদ ও আয়াতের আলোকে কথা বললে কোথাও কোনো সহিংসতা হবে না- এটা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি।
২ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় বরিশালের বিডিএস মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রসারে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন, বিদ্বেষ ও সংঘাতের বিস্তার যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম উদ্বেগের বিষয়, তখন বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রসারে করণীয় নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন উদ্যোগও আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বিশ্বরাজনীতির প্রভাবশালী শক্তিগুলোর ভূমিকা, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো বহুধর্মীয় সমাজে সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেননা এ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির শিক্ষা কোনো নতুন আমদানি নয়। পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটকসহ সব ধর্মগ্রন্থেই মানবতা, সহনশীলতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা রয়েছে। বাংলাদেশের হাজার বছরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। ফলে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে প্রকল্প, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক উসকানি, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বাস্তবতাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতারাই যখন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন, তখন পরিস্থিতি কতটা জটিল হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতিও সারা বিশ্ব জানে। বাংলাদেশেও ধর্মীয় লেবাসধারীদের কেউ কেউ ওয়াজ মাহফিল কিংবা রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, ধর্ম নিয়ে কথা বলার সময় অবশ্যই পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আয়াত, অনুচ্ছেদ ও শ্লোক ধরে কথা বলুন। ধর্মগ্রন্থই সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, হাঙ্গার প্রজেক্টের অনেক আয়োজনে আগে অংশ নিয়েছেন। তবে ব্যানারে উল্লেখিত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রসারের বিষয় নিয়েও সংস্থাটি কাজ করে, তা আগে জানা ছিল না।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের পলিসি অ্যাডভাইজার ও ফোর্ব এজেন্ট অব চেঞ্জ প্রকল্পের অপারেশন ডিরেক্টর চার্লস রীড।
বরিশাল জেলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁনসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় ‘এজেন্টস অব চেঞ্জ: স্ট্রেংদেনিং ফোর্ব এনগেজমেন্ট ইন পোস্ট-ইলেকশন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮