নীলফামারী থেকে
সাদ্দাম আলী।।
আবু সুফি আহমেদ বলেন, আমি পড়ালেখা শেষ করে বিভিন্ন ধরণের অর্গানিক প্রোডাক্ট নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাদের সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিক কাজ করেছি। সেই সুবাধে আমার অর্গানিক প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। সেজন্য নীলফামারীতে তৈরি করেছি ব্যাক টু নেচার -বিএনএল-নামে একটি কোম্পানি। বিটরুটের মধ্যে এন্টি-এজিং উপাদন রয়েছে, যেটা সৌন্দর্য্যকে ধরে রাখে। ওসব কোম্পানি আমাকে এটা চাষের বিষয়ে পরামর্শ দিলো সেখান থেকে আমি ইচ্ছা পোষণ করে আমার ৫১ শতক জমিতে বিটরুট চাষের সিদ্ধান্ত নিলাম। তেমন যত্ন ছাড়াই ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে বিটরুটের আবাদ করবো।
তিনি আরও বলেন, এক কেজি বীজ ও সার মিলিয়ে ছয় হাজার টাকা, লেবার ও পানি খরচ ৯ হাজার টাকা মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বিটরুট চাষে। বেলে, দো-আঁশ জাতীয় উর্বর মাটিতে চাষ করলে সার কম লাগে। এ গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় খরচ অনেকটাই কম। বীজ রোপনের চার মাসের মাথায় খেত থেকে বিটরুট উঠানো শুরু করেছি। আমার কোম্পানির মাধ্যমে কাঁচা এবং পাউডার করেও বিক্রি করতেছি।
বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত নীলফামারীর মাটি ও আবহাওয়া। বিটরুট চাষী আবু সুফিকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে বিট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ বলেন, নীলফামারীতে প্রথম বিটরুট চাষ করেছেন আবু সুফি আহমেদ। আমরা সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেছি, ফলন সন্তোষজনক। বিটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার ও অন্যান পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এছাড়া এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্যানসার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

























