প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০২৬, ৯:০৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৯, ২০২৪, ৫:২১ এ.এম

নীলফামারী থেকে
সাদ্দাম আলী।।
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেট গুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। আর সেই সাথে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। জেলার বড় বড় মার্কেট সহ ফুটপাতের দোকানগুলোতে শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা ।
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের দোকানপাট খোলা থাকছে। এদিকে-নিউ মার্কেট-পৌর সুপার মার্কেট-মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট-মুরাদ আলী প্লাজা-সোলেমান প্লাজা-বড় বাজার-সিমলা গার্মেন্টস-প্রিয়ম ক্লথ ষ্টোর শিশু মেলা গার্মেন্ট সহ বিভিন্ন বিপণী বিতাণে প্রতিদিন ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
রাফা শিশু মেলা গার্মেন্টেসের মালিক মোঃ রেজাউল করিম রাজু বলেন, এ বছর ঈদে আমাদের দোকানে ছোট শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কাপড় এসেছে তাই ক্রেতারাও দেখে শুনে কাপড় কিনেন। বড় বাজারের আবু হানিফা বলেন, এ বছর ঈদের বাজারে দেশিয় সুতি থ্রি-পিসের সঙ্গে ল্যাহেঙ্গা, বুটিকস্, চোয়া, আড়ং, জিপসি, ভারতীয় থ্রি-পিচ, নাইরাকাটা এবারের মুল আর্কশন। এছাড়াও ভারতীয় সারারা, জারারা, ও থ্রি-পিচের পাশাপাশি দেশীয় পোশাক পছন্দের শীর্ষে। বাজারে চাহিদা রয়েছে, অরগেনজা, মেঘা, চান্দ্রিয়া, জয়পুরি ও পাকিস্তানি সারারা গারারা বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কাতান, বাড়িস, কারচুপি, বালাহার, মটকা, কাশ্মিরী কাতানের প্রচুর চাহিদা।
জেলা শহরের বড় বাজারের স্মৃতি ক্লোথ এন্ড গার্মেন্টেসর মালিক মকবুল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার কেনাকাটা কিছুটা বেড়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের সামর্থ্যের মধ্যেই বেচাকেনা চলছে। তবে সারারা গারারা, কাতান, ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফোর প্লাই, মনিপুরি ও কাশ্মিরী কাতান শাড়ী উল্লেখ্য। এছাড়া লেহেঙ্গার চাহিদাও বেড়েছে বেশ।
জামিল গার্মেন্টেসের প্রোফাইটার আব্দুর রহিম জানান, ফোর প্লাই, মনিপুরি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ল্যাহেঙ্গা পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, সারারা-জারারা পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা, সুতি থ্রি-পিচ এক হাজার ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ভারতীয় জিপসি সাত হাজার থেকে আট হাজার ৯০০ টাকা। অপরদিকে, পাঞ্জাবী, শার্ট, প্যান্ট, গেনঞ্জি ফতুয়া ও শিশুদের জামা কাপড়সহ দোকান ঘুরে কেউ, কেউ দেখছেন, আবার কেউ সাধ্যমত কিনছেন।
জেলা শহরের পৌর মার্কেটে ক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু ও সদর টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের আলী হোসেনের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, ‘ঈদ আছে আর মাত্র ২ দিন বাকী । পরিবারের সকলের কাপড় কেনা প্রায় শেষের দিকে। এখন আমার একটি পাঞ্জাবী কিনতে এসেছি। দাম খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে। কিন্তু কি করার সামনে ঈদ কাপড় তো কিনতেই হবে।
ওই মার্কেটে নারী ক্রেতা রুমা আক্তার বলেন, ‘এবার ঈদে প্রত্যেকটি দোকানে পছন্দের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আমি মেস এ থাকি বাসায় যাবো তাই ভাবলাম নিজের কাপড়টা কিনে যাই। তবে এসে মনে হচ্ছে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি কাপড় আসছে মার্কেটে তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে গত বছরের তুলনায়।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্চ এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় তুলনা মূলক ভাবে এবারও ঈদ পোশাকসহ সকল পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু এরপরেও ঈদ পালন করতে কম, বেশি কিছু কিনতেই হবে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাজ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান তিনি।’
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -ওসি-তানভিরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষায় সব সময় সতর্ক আছি। ঈদকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান, দোকান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনেও বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ।