প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৫, ২০২৬, ৪:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৬, ২০২৩, ১০:২৭ এ.এম
নিষেধাজ্ঞার পরে এখন আমরা ভালো মাছ পাচ্ছি।।

স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।।
নিষেধাজ্ঞার পরে এখন আমাদের জালে আল্লাহর রহমতে ইলিশ, পোয়া, পাঙ্গাসসহ নানা প্রজাতির ভালো মাছ পাচ্ছি। এতে আমরা কি যে খুশি তা বলে বোঝাতে পারবো না। আশা করি এভাবে আরও ৬/৭ দিন পেলে আমাদের অতীতে এনজিও থেকে ঋণ নেয়া কিস্তি শোধ হবে, সেই সাথে কমবে আমাদের দীর্ঘ ২২ দিনে নিষেধাজ্ঞার সময়ের ধার-দেনাসহ অন্যান্য ঋণের বোঝা। সম্ভব হবে নিষেধাজ্ঞার সময় যে ধারদেনা পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়ানো। কারণ নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা বড় কষ্ট কাটিয়েছি। সরকার যে চাল আমাদেরকে দিয়েছে, তা দিয়ে আমাদের তিন বেলা ভাত খাওয়া সম্ভব হয়নি। কোনদিন দুই বেলা খেয়েছি কোনদিন তিনবেলা খেয়েছি। আবার কোনদিন এক বেলাও খেয়েছি। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে কাটিয়েছি নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ ২২ দিন। কথা এগুলো বলছিলেন, ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলি এলাকার মেঘনা নদীর জেলে মো. নুরু আলম মাঝি, তৈয়ব মাঝি, হাসান মাঝি ও জাকির মাঝি সহ আরও অনেক জেলেরা।
০৫ নভেম্বর রবিবার সকাল থেকে শুরু ৬ নভেম্বর সোমবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেরা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে দলবেঁধে ছুটে যাচ্ছেন। অনেকে নদী থেকে মাছসহ হাসিমুখে ঘাটেও ফিরছেন। ঘাটে সেই মাছ বিক্রি করে আবারও জাল ফেলতে যাচ্ছেন নদীতে।
শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকার মেঘনা নদীর জেলে মো. আনোয়ার মাঝি, স্বপন মাঝি ও সিদ্দিক মাঝি আরও জানান, তারা নিষেধাজ্ঞার পরে পৃথকভাবে চার-পাঁচজন মাঝি নিয়ে নদীতে গিয়ে প্রতিদিনই ভালো পরিমাণ ইলিশ, পাঙাশ ও পোয়া মাছ পাচ্ছেন। প্রতিদিনই তারা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে পারছেন।
ভেদুরিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মো. আকবর মাঝি, সোহেল মাঝি ও মাসুদ মাঝি জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ ও পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছ তারা নদীতে গিয়ে পাচ্ছেন এটি যদি আরও পাঁচ-ছয়দিন পাওয়া যায় তাহলে নিষেধাজ্ঞার সময়ের ধারদেনা পরিশোধ হয়ে যাবে।
তুলাতুলি মৎস্যঘাটে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা মো. মিজানুর রহমান ও কবির হোসেন জানান, বাজারে মাছের দাম বেশি হওয়ায় তারা মাছ কিনতে ঘাটে এসেছেন। কিন্তু ঘাটেও দাম বেশি। এক কেজি সাইজের ইলিশের হালি সাড়ে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা আর পাঙাশ চার হাজার থেকে আট হাজার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
তুলাতুলি মৎস্যঘাটের আড়তদার মো. আব্দুল খালেক জানান, নিষেধাজ্ঞার পর জেলেরা নদীতে গিয়ে ইলিশের পাশাপাশি ৫/১২ কেজি ওজনের পাঙাশ পাচ্ছেন। এতে আমাদের ঘাটে বেচা-বিক্রি জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা এসে মাছ কিনছেন। তবে ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন পাইকারি আড়তে মাছ পাঠানোর চাহিদা থাকায় দাম একটু বেশি। কয়েকদিন পর দাম আরেকটু কমবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কামাল আজাদ জানান, জেলেরা বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে পাচ্ছেন তাতে তারা খুশি। তবে আগামী কয়েক দিন পর নদীতে আরও বেশি ইলিশ, পাঙাশ ও পোয়াসহ বিভিন্ন মাছ পাওয়া যেতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যে ধারদেনা করেছেন এবার তা পরিশোধ করে আগামী দিনগুলোর জন্য সঞ্চয়ও করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এ কর্মকর্তা।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২