আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
রণক্ষেত্রে দ্রুত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানায়, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্র তৈরি করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্র বা টেস্ট রেঞ্জ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।
মিশিগানের একটি সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল জানান, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামরিক ঠিকাদারদের দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমিয়ে আনা হবে।
শুক্রবার চালু হওয়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করার পর মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা মিত্র দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ড্রিসকল বলেন, সেনাদের নিরাপত্তা বাড়ানো বা আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক কোনো নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করতে আগে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। বর্তমান যুদ্ধের বাস্তবতায় এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়ার মধ্যেই এ উদ্যোগের ঘোষণা এলো। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ও উদ্ভাবনী ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে।
একই সময়ে বিভিন্ন সংঘাতে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে মার্কিন সামরিক মজুতের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর তৈরিতেই অনেক সময় লাখ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে।
ড্রিসকল জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ এবং দেশটির দ্রুত নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা উদ্ভাবনের সক্ষমতা দেখেই মার্কিন নীতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগন এখন ছোট ও তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুযোগ দিতে চায়। এর মাধ্যমে উৎপাদনের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি গত কয়েক দশকে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক বাধাগুলোও দূর করার চেষ্টা চলছে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় সামরিক চুক্তি না থাকলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো রকেট, ড্রোন এবং ড্রোন-বিধ্বংসী অস্ত্র পরীক্ষার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর পাঁচটি টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
ইতোমধ্যে ‘কভেন্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মরক্কোতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি মিসাইল টেস্ট রেঞ্জে তাদের নতুন ‘অ্যানথেম’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী অ্যাবি ডেনবার্গ জানান, এই পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনই নয়, বরং অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও সামরিক পরীক্ষার সুযোগ পাওয়ার একটি সহজ পথ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংঘাতে ব্যবহারের কারণে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এসব ব্যবস্থা ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হতে পারে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবসময়ই আরও বেশি অস্ত্রের প্রয়োজন। তবে কোন কোন অস্ত্রের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল দাবি করেন, বিশ্বের ইতিহাসে যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এখনো বিশাল। নতুন ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তি পরীক্ষা, দ্রুত উৎপাদন এবং দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার দিকেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮