আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকরের প্রস্তুতির মধ্যেই এবার জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচায় নতুন বিধিনিষেধ আনার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় তিনি জানান, রাজ্য সরকার দুটি পৃথক আইন প্রণয়নের কাজ করছে—একটি ধর্মান্তর নিয়ে, অন্যটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “খুব শিগগিরই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করব। এরপর জোরপূর্বক ধর্মান্তর রোধে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে।”
তবে নতুন ভূমি আইনে ঠিক কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচায় কোনো সরাসরি সীমাবদ্ধতা থাকবে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংগঠন জঙ্গলমহল ও বাঁকুড়ার দরিদ্র মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং অবৈধ ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এ সময় তিনি নিজের সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর, অবৈধ ওবিসি তালিকা বাতিল, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধ এবং মহররমে তলোয়ার বহন নিয়ন্ত্রণ—এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। খসড়া বিধি পর্যালোচনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর বিধানসভায় ইউসিসি বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি বণ্টন এবং দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে অভিন্ন আইনি কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংবিধানগত সুরক্ষা পাওয়া শ্রেণিগুলোর অধিকার বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আগস্টের বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে ভারতে ইউসিসি কার্যকর করা চতুর্থ রাজ্য।
এদিকে ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচা নিয়ে পৃথক আইন আনার ঘোষণাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধিনিষেধ আসতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮