শওকত আলম, কক্সবাজার,
দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন সৈকতনগরীতে। পর্যটকদের আগমনে কলাতলী ডলফিন মুড, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বাড়ছে মানুষের ভিড়। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ ছবি তুলে ছুটির মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক বলেন, অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছেন তিনি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সমুদ্রসৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর পাশাপাশি সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকদের এমন সমাগম তাঁদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। সে হিসাবে পাঁচ দিনে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে।
তিনি জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই আগাম কক্ষ বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
শহরের প্রধান সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ ও হিমছড়ি ঝরনাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বাড়তি আয়ের আশায় রয়েছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা।
সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, সমুদ্রে গোসল করতে নেমে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাঁরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও ভাটার সময় সতর্কতার অংশ হিসেবে লাল পতাকা টাঙানো হয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন খাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় ও হয়রানি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি করা করছেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সেবার মান বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ভাড়া ও মূল্য আদায় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮