গাইবান্ধা প্রতিনিধি,
গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে রোববার গভীর রাতে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-এর কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুরসহ ব্রহ্মপুত্র নদীর অন্তত ৮টি চরাঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘরবাড়ির পাশাপাশি স্কুল, মাদরাসা, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ঝড়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় তারা রাত থেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। ফলে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছেন তারা।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলা-এর চর খারজানি, বুলবুলির চর, বাটিকামারী ও হারোডাঙ্গাসহ আরও কয়েকটি চরাঞ্চলেও তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ঝড়ে পৌর এলাকা ও চরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ঝড়ের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮