মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি,
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রশাসনের নজরের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে যত্রতত্র পাহাড় কেটে মাটি সমতল করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতায় কমছে চাষাবাদের জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানা কাজে পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও পাহাড় কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও নিচু জমি ও ধানখেত ভরাট করতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেই মাটি। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে দীঘিনালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল, মাটিধসসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষিজমি ভরাট করে বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে খাদ্য উৎপাদনের জমিও ক্রমেই কমে আসছে।
তারা বলেন, উন্নয়ন বা বসতি স্থাপনের প্রয়োজন থাকলেও পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড় কাটার কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পুরো এলাকার মানুষের ওপর পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড় কাটা ও কৃষিজমি ভরাটের বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে পাহাড় কাটা হয়েছে, সেসব স্থান পরিদর্শন করে পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর এর প্রভাব নিরূপণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে দীঘিনালার পাহাড়, বনভূমি ও কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮