চঞ্চল,
লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক-কে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাওয়াত কার্ড পাঠানোর দাবি করা হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছেন তিনি কোনো আমন্ত্রণই পাননি। ২৬ মার্চ ২০২৬।
এই অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লালমনিরহাটের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী রাওয়ানা মার্জিয়া অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো অবিশ্বাস্য এবং চরম হতাশাজনক। এটি কেবল তাঁর অপমান নয়, বরং পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।" সাংস্কৃতিক কর্মী রিয়াজুল হক সরকারও এই ঘটনাকে প্রশাসনের বড় ধরণের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, প্রশাসনের এই উদাসীনতা সরাসরি স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তায় তিনি দাবি করেন যে, দাওয়াত কার্ড অবশ্যই পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বীর প্রতীক আজিজুল হক দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো কার্ড বা মৌখিক আমন্ত্রণ— কিছুই পাননি। পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি লজ্জিত ও মর্মাহত। তিনি বলেন, "বাড়ির লোকজন প্রশ্ন করছে আমি কেন মাঠে যাইনি। বীর প্রতীক হয়েও দাওয়াত না পাওয়ায় আজ আমার নিজের কাছেই লজ্জা লাগছে।"
গভীর ক্ষোভ আর চোখে জল নিয়ে এই সম্মুখ সমরের লড়াকু সৈনিক বলেন, "এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ এনেছি। আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু ১৯৭২ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুঃখটা আজই পেলাম। মুক্তিযুদ্ধ করাটাই কি আমার অপরাধ?"
যাঁদের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন মানচিত্র পেয়েছি, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁরাই যদি উপেক্ষিত হন, তবে স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা নিয়ে সচেতন মহলে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২৬ মার্চ ২০২৬।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮