দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নন জানিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।
বাদীর দাবি, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে মামলা করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শুরু করার পর সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। কিন্তু কোনো কারণ উল্লেখ না করেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা একজন মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের কারণে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানের জন্য তিশা বাদীর কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। পরে শাড়িটি ফেরত চেয়ে তাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তদন্তে উভয়ের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিশা ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার না করায় কিছু বার্তা দেখেননি।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর শাড়িটি ফেরত চেয়ে আবারও বার্তা পাঠান বাদী। জবাবে তিশা শাড়িটির বিষয়ে জানতে চান এবং পরে জানান, তার সাবেক ড্রাইভার শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় বিষয়টি তার মনে ছিল না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথাকাটাকাটি হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর বাদী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি জানার পর তিশা গুলশান থানা পুলিশের মাধ্যমে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাদী সেটি গ্রহণ না করে মামলা করেন।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তিশা বিভিন্ন মাধ্যমে বাদীর ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার মতে, শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিশার পাঠানো বার্তায় শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হুমকির অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।
নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৫ মে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
অন্যদিকে বাদী আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া জানিয়েছেন, তিনি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করবেন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি অনুষ্ঠানে পরার জন্য নেওয়ার পর তিশা সেটি ফেরত দেননি। পাশাপাশি শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পিবিআইয়ের তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮