প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:১৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৩, ২০২৬, ৮:৫০ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে প্রথমবার গুর উৎপাদনে সফল কৃষিবিদ ড. মোঃ শামসুর রহমান
নয়ন হোসেন, হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো আখ উৎপাদন থেকে গুর তৈরি করে সাফল্যের নজির গড়েছেন কৃষিবিদ ড. মোঃ শামসুর রহমান। উপজেলার জাঙ্গিপাড়া এলাকায় নিজ উদ্যোগে আখ চাষ করে সেখান থেকে মানসম্মত গুর উৎপাদনে সক্ষম হন তিনি। এ কাজে তার পাশে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই হরিপুর অঞ্চলে ধান, গম, ভুট্টা ও সরিষার মতো ফসলের চাষ হলেও আখ চাষ ও গুর উৎপাদন ছিল প্রায় অনুপস্থিত। কৃষিবিদ ড. মোঃ শামসুর রহমান আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আখ চাষ শুরু করেন। সফল ফলনের পর তিনি নিজ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে আখ ভাঙিয়ে রস সংগ্রহ করে গুর প্রস্তুত করেন।
ড. মোঃ শামসুর রহমান জানান, “হরিপুরের মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে এখানে বাণিজ্যিকভাবে গুর উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আমার এই উদ্যোগ মূলত স্থানীয় কৃষকদের নতুন একটি লাভজনক ফসলের দিকে আগ্রহী করে তোলার জন্য।”
তিনি আরও বলেন, গুর তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত। ভবিষ্যতে আখ চাষের পরিমাণ বাড়িয়ে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও গুর সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
ড. শামসুর রহমানের ছোট ভাই বলেন, “ভাইয়ের উদ্যোগে পাশে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। শুরুতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সঠিক পরিচর্যা ও পরিশ্রমের ফলে আমরা সফল হয়েছি।”
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, হরিপুরে আখ চাষ ও গুর উৎপাদন সম্প্রসারিত হলে কৃষকদের আয় বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ঐতিহ্যবাহী গুর শিল্প নতুনভাবে পুনর্জীবিত হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে হরিপুরে আখ ও গুর উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় কৃষিখাতে পরিণত হতে পারে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, কোড নাম্বারঃ ৯২