আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ঝংনানহাইয়ের প্রাচীন রাজকীয় উদ্যানে এক ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর মধ্যে।
উদ্যানের ঘন ছায়া আর শতবর্ষী গাছের মাঝ দিয়ে হাঁটার সময় শি জিনপিং ট্রাম্পকে একটি ৪০০ বছরের পুরোনো গাছ দেখিয়ে বলেন—
এর ইতিহাস আমেরিকার ইতিহাসের চেয়েও পুরোনো।
তিনি বলেন, এই গাছের মধ্যে আছে “অদম্য প্রাণশক্তি এবং ইতিহাসের গভীর ছাপ।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শি মূলত একটি কূটনৈতিক বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন—
বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তিকে সংঘাত নয়, বরং স্থিতিশীলতার পথে চলতে হবে।
ট্রাম্পও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এগুলো এত বছর বেঁচে থাকতে পারে, অবিশ্বাস্য!”
এরপর তিনি জানতে চান, কতজন বিদেশি নেতা এই উদ্যানে এসেছেন—
যার উত্তরে শি বলেন, “খুব কম।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল এক ধরনের ‘বিশেষ মর্যাদা’ প্রদর্শনের ইঙ্গিত।
তবে এই সৌজন্যমূলক পরিবেশের আড়ালে ছিল বড় কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
শি জিনপিং বৈঠকে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ ধারণার কথা তুলে ধরেন—
যেখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সংঘাতে না গিয়ে সহযোগিতার সীমার মধ্যে থাকবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে চীন সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও বিস্তারিত পরিষ্কার নয়।
তবে বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা দৃশ্যমান অগ্রগতি এই সফর থেকে আসেনি।
কৃষি বা জ্বালানি কেনাকাটার বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল সম্পর্কের স্থিতিশীলতা—সংঘাত কমানোর একটি বার্তা।
দুই পক্ষই একে অপরকে সম্মান জানালেও, কৌশলগত প্রতিযোগিতার বাস্তবতা অটুট রয়ে গেছে।
শি জিনপিং যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ইতিহাস ও বৈশ্বিক ভারসাম্যের কথা বলছিলেন,
ট্রাম্প সেখানে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক অর্জনের দিকে নজর রাখছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ঝংনাননাইয়ের সেই প্রাচীন গাছগুলো যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—
ক্ষমতার পালাবদল আসে, কিন্তু ইতিহাসের প্রবাহ থেমে থাকে না।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮