তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার।।
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি এলাকায় মাছ শিকারে গিয়ে অপহৃত ৮ জনকে তিনদিনেও উদ্ধার করা যায়নি। তাদের মুক্তিতে ২৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অনড় রয়েছে অপহরণকারীরা।
এদিকে অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার ও অপহরণে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। টেকনাফ থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের দল সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছে গত তিনদিন ধরে। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অপহৃতদের পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসীও থেমে নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পাহাড়ি এলাকার ছড়াখালে মাছ শিকারে যায় তিন শিক্ষার্থীসহ ৮ জন। পরে অপহরণকারীরা জনপ্রতি তিন লক্ষ করে মোট ২৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অপহৃতরা হলেন- বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জাহাজপুরা গ্রামের সৈয়দ আমিরের পুত্র কলিম উল্লাহ, নুরুল হকের পুত্র নুর মুহাম্মদ, রশিদ আহমদের পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহ, কাদির হোসেনের পুত্র নুরুল হক, ছৈয়দ আমিরের পুত্র মোস্তফা কামাল, রশিদ আহমদের পুত্র নুরুল আবছার, মমতাজ আহমদের পুত্র মুহাম্মদ রিদুয়ান ও রুস্তম আলির পুত্র সেলিম উল্লাহ।
অপহৃতদের পরিবারের লোকজন জানায়, পাহাড়ি ছড়াখালে মাছ শিকারে গেলে পাহাড় থেকে নেমে আসা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে ৮ জনকে জিম্মি করে গহীন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। পরে রাত ন'টার দিকে অপহরণকারীরা ফোন করে জনপ্রতি ৩লক্ষ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হালিম ৮জনকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহরণের ঘটনা অবগত হওয়ার পর থেকেই পুলিশ দফায় দফায় উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরে রোববার রাতে ও এই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল-বিকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়েও অপহৃতদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (এমইউপি) রফিকুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ছড়াতে সখ করে মাছ শিকারে গিয়ে ৮ জন লোক অস্ত্রধারী অপহরণকারীর কবলে পড়ে। একসাথে এতোজন অপহরণের ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটেনি।
সূত্র জানায়, অপহৃতদের উদ্ধার অভিযানে যারাই পুলিশকে সহযোগিতা করছে তাদের নিকট অপহরণকারীরা ফোন করে হুমকি দিচ্ছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণকারীদের সাথে এলাকার অপরাধচক্রের যোগসাজশ রয়েছে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, অপহরণকারীদের সাথে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় দুর্বৃত্তের যোগসাজশ রয়েছে। নয়তো উদ্ধার অভিযানের সব খবর অপহরণকারীরা প্রতিনিয়ত জানার কথা নয়।
চেয়ারম্যান খোকন আরও জানায়, মঙ্গলবার ভোরে অপহরণকারিরা অপহৃত রিদুয়ানের বাবাকে ফোন করে তাদের জিম্মি থাকা একেক জনের কাছ থেকে একেক পরিমাণ টাকা তুলে তাদের (অপহরণকারী) দেখিয়ে দেওয়া জায়গায় টাকাটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দেশনাও দেয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'একসাথে এতো লোক অপহরণের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল পাহাড়ে কাজ করছে'।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮