নাদিম সরকার,
২০২৬: আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে দেশের জুনিয়র বৃত্তি ও সমমানের বৃত্তি ও এবতেদায়ি ৫ম বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ফলাফল প্রকাশ ও নীতিগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য
১. সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসমূহ
সারা দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
মোট ফরম পূরণ: ৩,৪৬,৫৯১ জন
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ: ৩,১৫,১৬০ জন
মোট নম্বর: ৪০০
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী:
মেধাবৃত্তি: ১৪,৭০০ জন
সাধারণ বৃত্তি: ৩১,৫০০ জন
মোট: ৬৮,৭৬৮ জন
২. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড
ইবতেদায়ী(৫ম শ্রেণি):
ফরম পূরণ: ৬৯,৬০০
অংশগ্রহণ: ৬৩,৯৩০
দাখিল (৮ম শ্রেণি):
ফরম পূরণ: ৪৮,২৯৩
অংশগ্রহণ: ৪৩,৭০৯
মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত:
২২,৩৬০ জন
৩. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
জেএসসি/জেডিসি ভোকেশনাল সমমানের পরীক্ষায়:
ফরম পূরণ: ৩,১০৪
অংশগ্রহণ: ২,৬১১
মোট নম্বর: ৫০০
মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত: ২০৮ জন
গত বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালতের নির্দেশনা ও সমঅধিকারের সাংবিধানিক নীতির আলোকে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি উপজেলাভিত্তিক হবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আগামী এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ কোরবানি ইদের আগে গতবছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে জানান।
মোট বৃত্তি: ৮২,৫০০
ট্যালেন্ট পুল: ৩৩,০০০
সরকারি: ২৭,৫০০ (৮০%)
বেসরকারি: ৫,৫০০ (২০%)
সাধারণ বৃত্তি: ৪৯,৫০০
সরকারি: ৪১,২৫০ (৮০%)
বেসরকারি: ৮,২৫০ (২০%)
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বৃত্তি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়- এটি মেধা, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি। শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা বন্ধ নয় বরং আরও বিস্তৃত করার দিকেই সরকার এগোচ্ছে।” মন্ত্রী বলেন, “যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিসিএসসহ সকল জাতীয় পরীক্ষায় এ ধরনের ধাপ রয়েছে।” মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন- নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মূল্যায়ন কেন্দ্রে অনিয়ম রোধে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা বিবেচনাধীন। নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আদালতের নির্দেশনার পরও কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে বিশেষ সেল গঠন করা হবে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে- মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮