তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ তথা বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উপর অবদান রাখায় জীববৈচিত্র্য গবেষক পদক পেয়েছেন কক্সবাজারের রামুর কৃতিসন্তান ড. নাছির উদ্দীন।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলন ও সেমিনারে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য ড. নাছির উদ্দীনকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
ড. নাছির ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের বন, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি কর্মজীবনের শুরুতে ওয়াইল্ড টিম ও ইউএসএইড'র বিভিন্ন প্রকল্পে সুন্দরবন ও এর পাশের এলাকাগুলোতে কাজ করেন। পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে ২০১৫ সালে সুন্দরবনের পশ্চিম অভয়ারণ্যে স্মার্ট পেট্রোল নামক আধুনিক টহল ব্যবস্থাপনা চালুতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যেমন- খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান এবং ফাঁসিয়াখালি জাতীয় উদ্যানে স্মার্ট পেট্রোল কার্যক্রমের বিস্তারে মাঠপর্যায়ে বন বিভাগকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। একই সাথে ড. নাছির ভারতের মানাস ন্যশনাল পার্ক, ভারতীয় সুন্দরবন, ইন্দোনেশিয়ার কেরিঞ্চি সাব্লাট ন্যশনাল পার্ক এবং তামান ন্যাশনাল সিবেরোতে স্মার্ট টহল ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারকে সহযোগিতা করেন। স্মার্ট পেট্রোলের পাশাপাশি ড. নাছির বাংলাদেশের হাতি সংরক্ষণে আইইউসিএন এশিয়ানের হাতি বিশেষজ্ঞ টিমের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ও হাতি সম্বলিত এশিয়া মহাদেশের আরো ১২ দেশের সরকারকে সহযোগিতা করছেন।
ড. নাছির ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সাইন্স থেকে বন্যপ্রাণী অপরাধ ও জেনোটিক ডিজিজের উপর পিএইচডি শেষ করেন। ইতোমধ্যে ড. নাছিরের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর প্রকাশিত বিভিন্ন নিবন্ধ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল রিভিউ জার্নাল, কঞ্জার্ভেশন বায়োলজি জার্নালসহ আরো অনেক নামকরা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
তাছাড়া ড. নাছির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমন, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব এবং মানবজীবনে তার প্রভাব নিয়েও গবেষণা করেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমন ও হাতি চলাচলের রাস্তায় শরণার্থী ক্যাম্প করার কারণে কক্সবাজার অঞ্চলে হাতি চলাচলের সমস্যা এবং হাতি-মানুষের দন্দ্ব নিরসনের উপায় নিয়ে তার পরিচালিত গবেষণা দেশে বিদেশে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
গেল ২১ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের ৮ম বার্ষিক সম্মেলনে ড. নাছির উদ্দীনকে পদক ও সম্মান স্মারক তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার।
ড. নাছির উদ্দীন কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ হাকিম-রকিমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মাদ্রাজ ভেটেরিনারি কলেজ এবং নামাক্কল ভেটেরিনারি কলেজ থেকে প্রাণী চিকিৎসার উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তিনি থাইল্যান্ড থেকে বন্যপ্রাণী অবসকরণ ও চিকিৎসার উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। একই সাথে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং এর উপর বিশেষ কোর্স এবং নেদারল্যান্ডের ভিরাজ ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ অপরাধ বিজ্ঞানের উপর পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স সম্পন্ন করেন।
গবেষণার পাশাপাশি ডক্টর নাছির উদ্দিন ওইয়াল্ড টিম, মুক্তির বন্ধন ফাউন্ডেশন, আইসিডিডিআরবি এবং প্যান্থেরা নামক আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক অর্গানাইজেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। এর পাশাপাশি ড. নাছির সোসাইটি ফর কনজারভেশন বায়োলজির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এশিয়ান হাতি বিশেষজ্ঞ টিমের একজন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সাথে রেঞ্জার্স ফেডারেশন এশিয়া'র একজন নির্বাহি সদস্যও।
ইতোমধ্যে ড. নাছির উদ্দিনের প্রায় ১৬ টি বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাপত্র বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮