শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে নিয়ম ভেঙে সদস্য পরিবর্তনের ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খেলাধুলায় সক্রিয় ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সদস্যদের বাদ দিয়ে অসংশ্লিষ্ট ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায়। স্থানীয়রা বলছেন—এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রীড়াখাতে সরকারের বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করা ও সেই বরাদ্দ থেকে ব্যক্তিস্বার্থে সুবিধা নেওয়া।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৬ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠিত হয়। শর্ত ছিল—সদস্য হতে হবে নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের। সেই নিয়মে কমিটিতে স্থান পান খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ছাত্র প্রতিনিধি।
কিন্তু গঠনের মাত্র ৭ মাস পরই ইউএনও হঠাৎ করে দুজন প্রকৃত ক্রীড়া–সংশ্লিষ্ট সদস্যকে বাদ দিয়ে অন্য দুজনকে ঢুকিয়ে দেন। বাদ পড়েন ক্রীড়া সাংবাদিক শাওন বেপারী ও ছাত্র প্রতিনিধি মো. হানিফ বেপারী। তাদের স্থলে ঢোকানো হয় জাজিরা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম সোহেল রানা ছৈয়াল ও সানজিদ মাহমুদ সুজন নামে এক ব্যক্তিকে—যাদের খেলাধুলার সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।
কমিটি গঠনের পর থেকে গত ৬–৭ মাসে একটিও সভা হয়নি, হয়নি কোনো পরিকল্পনা বা কার্যক্রম। এমনকি মাঠ পর্যায়ের কোনো ক্রীড়া আয়োজনেও কমিটির কার্যকর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন—এতেই স্পষ্ট, উন্নয়ন বা ক্রীড়া প্রসার নয়, বরং বরাদ্দকৃত অর্থকে হাতের মুঠোয় নেওয়াই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
বাদ পড়া সদস্যরা অভিযোগ করেন, ‘‘এর আগেও নামমাত্র কমিটি বানিয়ে ক্রীড়ার নামে আসা টাকার বড় অংশ ভাগ হয়ে গেছে। এবারও ইউএনও একই কৌশল নিয়েছেন। সক্রিয় মানুষ বাদ দিয়ে এমন লোক বসানো হয়েছে যারা ক্রীড়ার চেয়ে বরাদ্দ ভাগাভাগি করতে বেশি আগ্রহী।’’
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও কাবেরী রায় বলেন, ‘‘আমার মনে হয়েছে পরিবর্তন করা প্রয়োজন, তাই করেছি।’’ তবে কেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে অসংশ্লিষ্টদের ঢোকানো হলো—তার কোনো স্পষ্ট জবাব তিনি দিতে পারেননি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমরুল হাসান বলেন, ‘‘লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই অনুমোদন হয়।’’
অন্যদিকে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, ‘‘এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। ইউএনও’র কাছেই জানতে হবে।’’
ঘটনা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—কমিটি থেকে অভিজ্ঞ ও সক্রিয় ব্যক্তিদের সরিয়ে অসংশ্লিষ্টদের ঢুকানো কোনো সাধারণ পরিবর্তন নয়। এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। কারণ, প্রকৃত ক্রীড়া–সংশ্লিষ্টরা থাকলে বরাদ্দের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হতো। কিন্তু অসংশ্লিষ্টদের যুক্ত করলে ইউএনও’র জন্য এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। ফলে বরাদ্দ অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।
স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা বলছেন, ‘‘এটি আসলে খেলাধুলার নামে একটি অর্থনৈতিক খেলা। উন্নয়ন এখানে অগ্রাধিকার নয়, বরং বরাদ্দের টাকা নিয়ন্ত্রণ করাই আসল লক্ষ্য।’’
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮