প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৭:০৮ পি.এম

মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভায়েলা-মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৩৪ বছরেও জাতীয়করণ করা হয়নি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে এ আশায় বিনা বেতনে পাঁচজন শিক্ষক শিক্ষিকা পাঠদান করে আসছেন।
ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভুঁইয়া চারকোটি টাকা মূল্যের ৩৩শতাংশ জমি স্কুলের নামে দান করে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেট ঘর নির্মাণ করেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই এখনো চলছে শিক্ষাক্রম। দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ভায়েলা-মিয়াবাড়ি, মুইরাবো, গোপালিয়াবাড়ি, আজিজনগর, ইসলামবাগ, হুরারবাড়িসহ আশপাশের এলাকার শিশুদের একমাত্র ভরসা এ বিদ্যালয়।
২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। ওই সময় বাদ পড়ে যাওয়া এ বিদ্যালয় জাতীয় করণের দাবিতে শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী সভা সমাবেশ, স্বারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করে আসছে। কিন্তু কোন ফল হচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। জরাজীর্ণ টিনের ঘর। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তাই বৈদ্যুতিক পাখাও নেই। আসবাবপত্র ও বেঞ্চ অপ্রতুল্য। কিন্তু শ্রেণি ভর্তি কোমলমতি শিক্ষার্থী। বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসে শিশুরা শিক্ষা গ্রহণ করছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিদ্যালয়ে নেই কোন টয়লেট। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয়টি রয়েছে অরক্ষিত। টিনের ছাউনি ভাঙ্গাচোরা। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত। তবুও চলছে পাঠদান।
বিনা বেতনে ৩৪ বছরে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষকদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। তারা অভাব অনটনে ভুগছেন। প্রতিশ্রুতিতে পুরো উদ্যমে পাঠদান করছেন। সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু ৩৪বছরেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়নি। মেলেনি কোন সরকারি সহযোগিতা। আশায় আশায় শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। কিন্তু কোন সুফল হচ্ছে না।
ভায়েলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর বলেন, অন্যদের মতো তার সন্তানরাও এ স্কুলে লেখাপড়া করছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলও ভালো। কিন্তু তীব্র গরম প্রখর রোদে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। তাতে বই খাতা ও শিশুরা ভিজে যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামীমা সুলতানা ওমা বলেন, স্থানীয়দের সহযোগীতায় বিদ্যালয়টি কোনরকম চলছে। অবিলম্বে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার দরিদ্র শিশুদের কথা ভেবেই তারা বিনা বেতনে পাঠদান করছেন। আবু সুফিয়ান ও তার সন্তানও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত বছরেও এ বিদ্যালয়ে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করেছে। নানা প্রতিকূলতকায় বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৩৩জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩০জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৪জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৫জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০জন মোট ২০২জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাহরুক জাবীন বলেন, আমি রূপগঞ্জে কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। খোঁজখবর নিয়ে বলতে পারবো। তবে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, ৩৪বছরেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়া দুঃখজনক। জাতীয়করণের ব্যাপারে সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।