লাইফস্টাইল ডেস্ক,
সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা বিকেলের আড্ডায় এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে মচমচে বিস্কুট—বাঙালির কাছে এটি বহুদিনের পরিচিত অভ্যাস। তবে দেখতে নিরীহ মনে হলেও এই নিয়মিত অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের ক্যাফেইন এবং অধিকাংশ প্রক্রিয়াজাত বিস্কুটের উপাদান একসঙ্গে শরীরের 'গাট ব্যারিয়ার' বা পরিপাকতন্ত্রের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই স্তরটি ক্ষতিকর জীবাণু ও বিষাক্ত উপাদানকে রক্তে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ময়দার প্রভাব:
বেশিরভাগ বিস্কুটেই পরিশোধিত ময়দা ব্যবহার করা হয়, যেখানে ফাইবারের পরিমাণ খুবই কম। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতিও থাকে না।
অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত উপাদান:
বিস্কুটে থাকা অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক, ইমালসিফায়ার এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল অন্ত্রে প্রদাহ বাড়াতে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যাফেইনের প্রভাব:
বিশেষ করে খালি পেটে চা পান করলে ক্যাফেইন পাকস্থলীর আস্তরণকে উত্তেজিত করতে পারে, যার ফলে অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা এবং অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনেকের হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং খাবারে জীবাণুর ঝুঁকি যুক্ত হলে বদহজম, গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
তবে এসব লক্ষণ মানেই যে গাট ব্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে, এমন নয়। এগুলোর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
যদি দীর্ঘদিন ধরে ডায়রিয়া থাকে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়, অকারণে ওজন কমতে থাকে বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চায়ের সঙ্গে প্রতিদিন বিস্কুটের বদলে স্বাস্থ্যকর কিছু খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেমন—
এ ছাড়া সাধারণ দুধ-চায়ের পরিবর্তে আদা চা, জিরা পানি বা মৌরি ভেজানো পানি অনেকের জন্য হজমে স্বস্তি দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে সচেতনতা আনলেই দীর্ঘমেয়াদে পেটের সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮