আহম্মেদ আল ইভান, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চুরির মামলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে, সক্রিয় চোরচক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাত ১১.০৫ টা থেকে বুধবার (১১ জানুয়ারি) ভোর ০৪.৩০ পর্যন্ত অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে ঢাকার জেলার জেলার- দঃ কেরানীগঞ্জ থানা ও আশুলিয়া থানা এলাকা হতে পুলিশি সহায়তায় চোরচক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার ও চোরাই মাল (স্বর্ণ) উদ্ধার করেন, চরভদ্রাসন থানা পুলিশ।
"আজমীর হোসেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফরিদপুর, এর সার্বিক তদারকী। ও "আনোয়ার হোসেন- অফিসার ইনচার্জ চরভদ্রাসন থানার। এর নির্দেশনায় "এস.আই রফিকুজ্জামান এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। চরভদ্রাসন থানার মামলা নং ০২, তারিখ ২৫/১১/২০১৫ ইং ধারা- ৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড।
জানা যায়, অত্র মামলার বাদীর মেয়ে নুসরাত জাহান বৃষ্টি (২১) এর বিবাহের তারিখ ঠিক হয়। বিবাহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করিয়া বাদীর ঘরবাড়ী রং করার জন্য গত ইং ০৪/১১/২০১৫ তারিখ হইতে রং মিস্ত্রীরা কাজ করিতে আসে। বাদীর ঘরে রং এর কাজ করার সুবাদে রং মিস্ত্রীরা বাদীর সকল ঘরে অবাধে যাতায়াত করে। ইং ০৪/১১/২০১৫ তারিখ হইতে কাজ চলমান থাকা অবস্থায় তাহাদের কাজ শেষের দিন অর্থাৎ ইং ১৪/১১/২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকার সময় চরভদ্রাসন থানাধীন- নবীন বিশ্বাসের ডাঙ্গী সাকিনস্থ বাদীর বসতঘরের ভিতরে থাকা কাঠের আলমারী খোলা এবং আলমারীর ভিতরে থাকা কাপড়- চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া। বাদীর মেয়ে নুসরাত জাহান বৃষ্টি চিৎকার দেয়। তখন বাদীর মেয়ের ডাক- চিৎকারে বাদী, বাদীর স্ত্রী, বাদীর মা- সহ আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটিয়া আসে। ঐ সময় বাদী তাহাদের উপস্থিতিতে বাদীর বসতঘরে থাকা কাঠের আলমারীর ভিতরে কাপড়ের ভাজে ভ্যানিটি ব্যাগে পূর্বে রাখা স্বর্নালংকার খোঁজা- খুঁজি করেন।
কিন্তু উক্ত ভ্যানিটি ব্যাগের ভিতরে কোন স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা পাওয়া যায় নাই। এমনকি উক্ত রং মিস্ত্রীরাও পালাইয়া যায়। অনেক খোঁজা-খুঁজি করিয়াও তাহাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায় নাই। চুরি যাওয়া স্বর্নালংকার ও টাকার মধ্যে নগদ ৮,০০০/-টাকা ও ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে থাকা স্বর্নের ব্রেসলেট ০১টি, ওজন ১২ আনা, স্বর্নের হার ০১টি, ওজন দেড় ভরি, স্বর্নের কানের দুল একজোড়া, ওজন ০১ ভরি, স্বর্নের চেইন ০১টি, ওজন ১২ আনা, স্বর্নের আংটি ০২টি, ওজন ০৮ আনা করিয়া, যাহার সর্বমোট ওজন (৮০ আনা)
=০৫ (পাঁচ) ভরি, যাহার সর্বমোট মূল্য অনুমান ৯,৫০,০০০/-(নয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং স্বর্নের নাকফুল ০১টি, যাহার মূল্য অনুমান ২,০০০/-টাকা, নগদ ৮,০০০/-টাকা, সর্বমোট= ৯,৬০,০০০/- (নয় লক্ষ ষাট হাজার) টাকা আসামীরা বাদীপক্ষ ঘরে না থাকার সুযোগে ইং ১৪/১১/২০১৫ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকা হইতে একই তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে কৌশলে উক্ত টাকা ও স্বর্নালংকার গুলো চুরি করিয়া নিয়া যায় বলিয়া এজাহারে উল্লেখ আছে।
"গ্রেফতারকৃত আসামী ১। সাইফুল সেক (২৭), পিতা- সেরজন সেক, সাং- উত্তর গোপিনাথপুর, থানা- নগরকান্দা, জেলা- ফরিদপুর। ও মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী ২। বাচ্চু ঘরামী (২২), পিতা- মোঃ দেলোয়ার ঘরামী, সাং- বড় কেশবপুর ফালু মাতুব্বরের কান্দি, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুর, ৩। শাওন মুন্সি (২৫), পিতা- মৃত হালিম মুন্সি, সাং- পশ্চিম কুড়ালিয়া, থানা- হিজলা, জেলা- বরিশাল, ৪। মিলন ইসলাম (৩০), পিতা- মোঃ খায়ের আলী, সাং- ময়দান দিঘী, থানা- ভাঙ্গুরা, জেলা- পাবনা, ৫। মোঃ শহিদুল ইসলাম (৫৩), পিতা- মৃত বাহার আলী, সাং- ১নং দুলগাছ, থানা- সদর, জেলা- লালমনির হাট, ৬। মোঃ ওয়াহিদ মুরাদ (৪৫), পিতা- মৃত আব্দুল কাদের, সাং- রহিম নগর, থানা- রূপসা, জেলা- খুলনা।
"চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চোরচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে, মামলার চোরাই আলামত উদ্ধারপূর্বক আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে পুলিশের এই অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সুশীল সমাজ ও স্থানীয়রা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় চরভদ্রাসন থানা পুলিশের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮