চঞ্চল,
লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড়ের সুপরিচিত ‘চমক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর এবং খাবারের দোকানে মল-মূত্র ঢেলে পরিবেশ দূষিত করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই অসভ্য ও বর্বর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চমক হোটেলের স্বত্বাধিকারী অর্দ্র জানান, মঙ্গলবার সকালে হরিজন সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি পরোটা নিতে এসে কিছুটা দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি পৌরসভার কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ডেকে এনে লাঠিসোঁটা ও বাঁশ দিয়ে হোটেলের ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর চালান। শুধু তাই নয়, তারা হোটেলের সামনে ও ভেতরে মল ও আবর্জনা ঢেলে দিয়ে এক বীভৎস পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে হোটেলের ভেতরে থাকা গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে আটকা পড়েন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে দিনের আলোতে একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় এমন জঘন্য ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোক্তারা। অনেক নিয়মিত গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "খাবার দোকানে মল ফেলার মতো নোংরা মানসিকতা ও বর্বরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।" সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একজন ব্যবসায়ীর অপমান নয়, বরং পুরো শহরের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।
জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মোরশেদুল হক ফ্লাড ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সুমন সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মূল অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে বুধবার থেকে শহরের সকল হোটেল, ক্যাফে ও মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বন্ধ রাখা হবে।" বিচার না পেলে পরবর্তীতে জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮