এন.রহমান নয়ন, চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মুরাদাবাদ এলাকায় ফসলি জমির ওপরের অংশ (টপসয়েল) কেটে ধ্বংস করার অপরাধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধীরা তাদের ব্যবহৃত এসকেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) ফেলে পালিয়ে যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে তাকে সহায়তা করেন চন্দনাইশ থানার এসআই মোহাম্মদ শরিফ ও তার দল। এছাড়াও ভূমি অফিসের সহকারী মোহাম্মদ জিহান এবং মোহাম্মদ সামির অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসলি জমির টপসয়েল কেটে মাটি পাচার করার কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং কৃষি পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মুরাদাবাদ এলাকায় কতিপয় প্রভাবশালী ‘মাটি খেকো’ চক্র নির্বিচারে ফসলি জমি কেটে মাটি পাচার করছে। এর ফলে এলাকার কৃষি জমি, বসতবাড়ি এবং যাতায়াত সড়ক ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মুরাদাবাদ এলাকার পূর্ব পাশের ফসলি জমি থেকে অন্ধকার নামার সাথে সাথেই ১০ থেকে ১৫টি ডাম্পার ট্রাকে করে মাটি পাচার শুরু হয়। প্রভাবশালী চক্রের পেশীশক্তি ও হুমকির ভয়ে এলাকাবাসী সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ফলে চক্রটি নির্ভয়ে কৃষিজমি খুঁড়ে গভীর পুকুরে পরিণত করছে।
তারা আরও জানান, কোনো কোনো স্থানে ৬ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার এবং ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসনের স্থায়ী ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ রক্ষায় এবং কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮