চট্টগ্রাম ব্যুরো:
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে কেউ কেউ হস্তক্ষেপ করতে চায়। আমি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—এই প্রেসক্লাব চলবে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মতামতে; কোনো দল বা সরকারের মতামতে নয়, কোনো উপদেষ্টার মতামতে নয়।
শনিবার সন্ধ্যায় ভিআইপি লাউঞ্জে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের কোনো প্রতিষ্ঠানে দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না, হাত ভেঙে দেওয়া হবে। এটা কোনো দলের কার্যালয় হবে না। কোনো দলের ইঙ্গিতে এই প্রেসক্লাব পরিচালিত হবে না, কোনো সরকার বা উপদেষ্টার ইচ্ছায় এই প্রেসক্লাব পরিচালিত হবে না। এই প্রেসক্লাব একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এই প্রেসক্লাব চলবে এখানকার সদস্যরা মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবেন, এখানকার যে গঠনতন্ত্র আছে সেই অনুযায়ী; যেভাবে জাতীয় প্রেসক্লাব চলছে। এখানে বক্রচক্ষে দেখার কেউ চেষ্টা করবেন না। আমরা সেটা থামিয়ে দিতে জানি এবং থামিয়ে দেব।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর আমাদের কিছু কিছু সাংবাদিকের কারণে সাংবাদিকতার যে মর্যাদা, সেটা ম্লান হয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু সাংবাদিকের এত বেশি দলদাসত্ব সাংবাদিকতাকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিছু কিছু সাংবাদিকের লোভ ও লালসা আমাদের সাংবাদিকদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি করেছে। সে সময়ে শুধু চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নয়, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ অধিকাংশ প্রেসক্লাবগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল। কিছু ছদ্মবেশী সাংবাদিক সেই কাজটি করেছিলেন। এই কাজটি কিন্তু তাদের ছিল না।
যখন ছাত্র-জনতা নির্বিচারে ও নির্মমভাবে হত্যার শিকার হচ্ছিল, তখন এই তথাকথিত কিছু সাংবাদিক সেই রক্তপাতকে উৎসাহিত করেছেন উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এদেরকে আমি জাতির বিবেক বলি কীভাবে? এদেরকে আমি সাংবাদিক বলি কীভাবে? এরা তো জাতির শত্রু, সমাজের শত্রু; এদেরকে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে 'শত্রু' হিসেবে আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। এদের সাথে কোনো আপস হতে পারে না। যারা আমার সন্তানদের নির্মম হত্যাকে উৎসাহিত করেছে, যারা আমার পেশাকে কলঙ্কিত করেছে, যারা গণমাধ্যমের আস্থা নষ্ট করে দিয়েছে—ওদেরকে গণমাধ্যমের বন্ধু বলা যাবে না, শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এবং গণমাধ্যমে চিহ্নিত করাটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।
সাংবাদিকদের বাঁচার একটিই পথ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেটা হলো ঐক্যবদ্ধতা, একতাবদ্ধতা। একসাথেই আমরা সবার হাত ধরে এগোবো। সেটা যদি পারি, আমরা বাঁচতে পারবো; না হলে আমাদেরকে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হতে হবে। আর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে প্রকৃত সাংবাদিকদের সাথে, কোনো সন্ত্রাসীর সাথে নয়, কোনো দলদাসের সাথে নয়। আমরা যদি গণমাধ্যমকে বাঁচাতে চাই, নিজেরা বাঁচতে চাই, আমাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে এক শামিয়ানার নিচে সমবেত হওয়ার বিকল্প নেই।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ওয়েজ বোর্ড ছাড়া কোনো মিডিয়া আমরা চলতে দেব না। 'নো ওয়েজ বোর্ড, নো মিডিয়া' নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। এই নীতিমালার শুভঙ্করের ফাঁকি রাখা যাবে না। আপনারা ঘোষণা দিচ্ছেন যে নবম ওয়েজ বোর্ড দিচ্ছি, দশম ওয়েজ বোর্ড দিচ্ছি—বাস্তবে হাতেগোনা দু-চারজনকে দেন, অন্যদের দেন না; বিশেষ করে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা পায় না। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। অবিলম্বে নবম ওয়েজ বোর্ড সকল গণমাধ্যমে কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, আরিচ আহমেদ শাহ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ।
ক্লাবের সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুলের সঞ্চালনায় এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮