চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খুসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,চট্টগ্রামের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পরিণত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার,
চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হল রুমে National Dissemination Seminar Integrated Growth Network Development (IGND) Initiative সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই চট্টগ্রামের বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা, তাদের মতামত শোনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের মালিকানাবোধ তৈরি করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, IGND ৮০ বিলিয়ন ডলারের বড় প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি খাত থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এধরনের বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগে এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় শুধু অবকাঠামোর বিষয় নয়, সম্ভাব্য অর্থায়নের বিকল্প উৎস, অর্থায়নের বিভিন্ন মাধ্যম, যোগাযোগব্যবস্থা, চট্টগ্রামকে কমপ্যাক্ট কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলা, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। শুধু সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানী তৈরি হবে না।এখানে বাণিজ্যিক পুঁজি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত ও কাজে লাগানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
চট্টগ্রামের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা আসছেন, কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ রয়েছে। একই সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ জোন গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।এসব অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে উঠলে এর সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, হসপিটালিটি, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই বিকশিত হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও আরো সম্প্রসারিত হবে।
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন যে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে নেওয়া প্রকল্পটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। এই প্রকল্পে বেসরকারি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের যুক্ত করা গেলে এর সফল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসা এবং প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এসময় অর্থমন্ত্রী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে এ প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এডিবি শুধু প্রকল্প উন্নয়নের সহযোগী নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে এডিবির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি,অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোঃ শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী,এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট Yingming Yang এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বেসরকারি খাতের উদোক্তাসহ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮