চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ও একেএস খান কোং লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান বলেছেন, 'চট্টগ্রামের মেয়েদের কিছু বিশেষ গুণ আছে, এটা আমি বিশ্বাস করি। আর রাঙ্গুনিয়ার 'প্রপিলিশন' যদি আমরা দেখি 'ফিফটি পার্সেন্ট' কিন্তু মেয়েরা। আমাদের কিন্তু বড় একটি 'অপর্চুনিটি' যে আমরা সারা বাংলাদেশে রাঙ্গুনিয়াকে তুলে ধরতে পারবো। যে আমরা শিক্ষার দিক দিয়ে কতটুকু আগাইয়া আছি। আমার তোমাদের কাছে একটাই অনুরোধ, পড়াশোনা শেষ করবা পুরোটা। ইউনিভার্সিটি যাবা, ইউনিভার্সিটি শেষে বিয়েশাদি তো আছেই। কিন্তু সবাই নিজেদের একটা ক্যারিয়ার করবা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের রফিকাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত রফিকাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের নবীনবরণ-বিদায় ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা তিন বোন, কিন্তু আমার আব্বা-আম্মা সব সময় বলেন, উনারা খুবই ভাগ্যবান যে, উনারা তিনটা মেয়ে পেয়েছেন, ছেলে আফসোস নেই। আব্বা বলতেন, আমার তিন মেয়ে হচ্ছে ত্রিশটা ছেলের সমান। কারণ এমন কোন কাজ বা দায়িত্ব নাই, যেটা নারীরা-মেয়েরা পারেনা। তাই তোমাদের নিজেদের ক্যারিয়ার থেকে যেই 'ইন্ডিপেন্ডেন্স'টা আসে, এটা কিন্তু কেউ কখনো দিতে পারে না। আমাদের বাবা- মায়েরা সন্তানদের শুধু একটা জিনিসই দিয়ে যাই জীবনে। সেটা হচ্ছে শিক্ষা। ঐ শিক্ষাটা নিয়েই কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের জীবনটা গড়তে হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি কিন্তু উঠে এসেছি ব্যবসায়ী পরিবার থেকে। তবে আমি আমার পরিবারের ব্যবসা দিয়ে শুরু করিনি। আমি লন্ডন থেকে যখন পড়াশোনা শেষ করে দেশে এসে নিজেই ব্যবসা শুরু করেছি। আমি আমার আব্বার কাছ থেকে কোন টাকা-পয়সা নিইনি। আমি নিজে ব্যংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। যেকারণে আমি নিজে কিছু করতে চাই। এবং গত পনেরো বছর বাংলাদেশে কাজ করে সফল হয়েছি। এটা কিন্তু আরেকটা উদাহরণ, যে মেয়েরা যদি কিছুতে মন দেয়, তাদের উদ্যোগ থেকে কেউ নড়াতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমি আশা করবো, তোমরা 'স্ট্রংলি' ভাবে জীবনে আগাইবা, তাহলে তোমরা কিছুনা কিছু একটা হবা। তোমাদের পরিচয় হবে তোমাদের কাজের মাধ্যমে। 'নট' তুমি কার মেয়ে, কার সহধর্মিণী।
কেআরএম জিয়াউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কেআরএম সরফুদ্দীন মাহমুদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইউনুচ মিয়া।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সি. সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী, রানীরহাট ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কে আর এম পিয়ার উদ্দীন মাহমুদ চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া ব্রিকফিল্ড সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দীন চৌধুরী খোকন।
বক্তব্য রাখেন, কেআরএম খায়রুদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মান্নান রনি, রেজাউল করিম সওদাগর, জাহেদুল আলম চৌধুরী, শাহেদ কামাল চৌধুরী, ওয়াকিল আহমেদ।
মানপত্র পাঠ করেন স্কুলের শিক্ষার্থী নুরুন্নেছা আক্তার ও বিদায়ী শিক্ষার্থী রূপা মনি।
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, মুসফিকা আলম।
পরে শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। এবং পুরস্কার বিতরণশেষে বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮