চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় নতুন ওসির দাপটে অস্ত্রধারী আসামির সন্দেহজনক মামলা।
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানায় দেশীয় অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তাকে নিয়মিত অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত না করে শুধুমাত্র সন্দেহজনক ব্যক্তি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।
জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রীজ এলাকা থেকে আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। তাকে থানায় নিয়ে আসার পর ডিউটি অফিসার তার নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য নথিভুক্ত করেন এবং আলমগীরের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্রটি থানায় উপস্থাপন করেন,বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার ডিউটি অফিসার সাইফুল।
তবে বিস্ময়করভাবে, এঘটনর স্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও থানার পক্ষ থেকে আলমগীরের বিরুদ্ধে নিয়মিত কোনো অস্ত্র মামলা করা হয়নি। বরং তাকে শুধু সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, কী কারণে অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার পরিবর্তে সন্দেহজনক ধারা প্রয়োগ করা হলো? এটি কি কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ,নাকি পুলিশের কোনো গাফিলতি না অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাকলিয়া থানা এলাকায় সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা অমান্য করে চলছে বালুরমহল,যা একাধিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। বাকলিয়া থানার নতুন ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার পরিবর্তে সন্দেহজনক ধারা প্রয়োগ করা কোনভাবে কাম্য নয় বলে জানান মানবাধিকার বিশ্লেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবী জিয়াউর হাবীব আহসান। তিনি জানান,পুলিশ অপরাধীকে জামিনের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে,এখানে আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা হয়নি,যার কারণে অপরাধীরা আরো বেশি করে অপরাধ করার সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানা ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান প্রথমে স্বীকার করতে না চাইলেও পরে বিষয়টি দেখবে বলে জানান তিনি বলেন,"আমি থানায় নতুন এসেছি"সে সময় তিনি নিজেকে "আমি পুলিশ না,আমি ডাকাত"বলে সম্বোধন করেন ও প্রতিবেদককে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন, এমনটাই দাবি তাদের।
আরো বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮