উৎপল রক্ষিত, বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুরে শাপলা বিক্রি করে ৫ শতাধিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।
শাপলা প্রাকৃতিক নিয়মেই বর্ষার পানিতে বেড়ে উঠে। শাপলা কোন ধরনের যত্ন ও পরিচর্যা করতে হয় না। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্হা উন্নতির কারনে গ্রামাঞ্চল থেকে শহর ও রাজধানীর বাজারগুলোতে সহজে পৌঁছানো যায়।
গাজীপুরের বেলাই বিল, শ্রীপুর উপজেলার ডুমনী গ্রামের টেইনার বিল, কাপাসিয়া উপজেলার, নরাইট বিল, কালিয়াকৈর উপজেলার মেদিআশুলাই আলোয়া বিল সহ জেলার বিভিন্ন বিলে প্রচুর পরিমাণে পাপলা পাওয়া যায়। এ সব বিল থেকে নারী ও দিন মজুর শাপলা সংগ্রহ করে স্হানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পাইকাররা শাপলা কিনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে থাকেন। ৮ থেকে ১০টি শাপলা দিয়ে একটি আঁটি বাধা হয়। প্রতিটি আঁটি শাপলা গ্রামাঞ্চলে ৬ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি করা হয়। সেই শাপলা শহরাঞ্চলে ২০/ ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
শাপলার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । শাপলা বিক্রি করে যে আয় হয় সেই টাকা দিয়ে সংসারে চালাচ্ছেন। শাপলা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু । শাপলার দাম কম হওয়ায় নিম্ন বিত্তদের কাছে চাহিদা বেশি। শাপলা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ধনী মানুষেরা খেয়ে থাকে। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। শাপলা এখন মজাদার তরকারি খাবার হিসেবে মানুষ খাচ্ছে।
মেদিয়া শুলাই গ্রামের
আদুরী রাজবংশী জানান, খুব সকালে বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে স্হানীয় বাজারে ও ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে থাকেন। এতে তাদের প্রতিদিন ৫/ ৬ শত টাকা আয় হয়।
বিমলা রাজবংশী (৭০) জানান, আমার বয়স হয়েছে। আমি বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকি। শাপলা বিক্রি করে প্রতিদিন ২/৩শত টাকা শাপলা বিক্রি করে পাই। আমি সাঁতার জানি না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন জীবিকার জন্য কাজ করি।
বর্ষাকালে তারা শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে। অন্য সময় তারা মাটি কেটে সংসার চালায়। আমি অসুস্থ মাটি কাটতে পারি না।
স্থানীয় কৃষক কলিন উদ্দিন জানান, বিলে প্রচুর শাপলা পাওয়া যেত, শুষ্ক মৌসুমে জমিতে ঘাস নিধনের জন্য এক প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যার কারনে শাপলার বংশ ধ্বংস হয়।
বর্ষা মৌসুমে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কাজ কম থাকে। দেশের কৃষক, বেকার যুবক ও অন্যান্য পেশার মানুষ এ পেশায় জড়িয়ে পড়ে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শাপলা একদিকে যেমন সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে। বর্ষাকালে কাজ না থাকায় বেকার মানুষ শ্রমজীবীদের আয়ের পথ তৈরী করে দিচ্ছে।
রঘুনাথপুরের আমজাদ হোসেন মেম্বার জানান, আমাদের এলাকায় জলাভূমিতে প্রচুর শাপলা পাওয়া যেত ।এখন আগের মত পাওয়া যায় না কারন মিল কারখানার দুষিত পানি,জমিতে অতি মাত্রায় ব্যবহার করা হয় রাসায়নিক। শাপলা সুস্বাদ সবজি দামও কম।
ড. চিত্ত রঞ্জন রায় জানান, শাপলা মানুষের পুষ্টির পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। শাপলা বিল থেকে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে দেশের অনেক মানুষ তাদের সংসারে চাহিদা পুরন করছেন।
শাপলা আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে প্রায় কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক ভাবেই বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়ে শাপলা জন্মে। প্রতি ১০০গ্রাম শাপলা লতায় ৩১ গ্রাম শর্করা, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় যা মানব দেহের জন্য উপকারি সবজি।
শাপলা সংগ্রহ করতে কোন পূজির প্রয়োজন হয় না। বর্ষা মৌসুমে শাপলা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে গ্রামের বাজার, উপজেলার বাজার, জেলা শহরের বাজার ছেড়ে রাজধানীর বাজারেও শাপলা পাওয়া যায়। শাপলা সংরক্ষণ করা ও বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে শাপলা থেকেই প্রতিবছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞরা মনে করেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮