
মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের গাড়িচালক হিরা মিয়াকে ট্রাফিক পুলিশের মারধরের ঘটনায় দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার সময় শহরের ডিসি অফিসের পাশে রাণী বিলাসমনি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মোড়ে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এক ঘন্টার মধ্যে দুই ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও নুর মোহাম্মদকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের স্টিকারযুক্ত গাড়িতে ডিসির দুই মেয়েকে স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলেন চালক হিরা মিয়া। দুপুর ১২টার দিকে শহরের রাণী বিলাসমনি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে এসে পৌঁছিলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যেতে বলেন। এসময় চালক হিরা মিয়া জানান, গাড়িতে জেলা প্রশাসক স্যারের দুই মেয়ে রয়েছে। এ কথা বলতেই এক ট্রাফিক পুলিশ বলতে থাকেন, ‘ডিসির গাড়ি হয়েছে তো কী হয়েছে? আপনাকে রাস্তা ঘুরেই যেতে হবে। আমরা রাস্তায় রোদে দাঁড়িয়ে ডিউটি করি আর আপনারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে যাবেন এটা হবে না’।
জবাবে চালক হিরা মিয়া বলেন, আপনাদের কাজই হচ্ছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা। এ কথা বলার পর এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ডিসির গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এসময় চালক হিরা মিয়া প্রতিবাদ করলে লাঠি দিয়ে তাকেও আঘাত করেন এবং তাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাতে চান কনস্টেবল ইউসুফ ও নুর মোহাম্মদ। পরে চালক গাড়ি ঘুরিয়ে ডিসির বাসভবনে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, গাড়িচালক হিরা মিয়াকে মারধরের সময় ডিসির দুই শিশুকন্যা বারবার পুলিশকে মারধর না করার জন্য অনুরোধ করলেও তারা শোনেননি। আতংকে তারা কান্নাকাটি করতে থাকে এবং ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
এদিকে ডিসির গাড়িচালককে পুলিশের মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা শহরের রাজবাড়ি সড়ক অবরোধ করে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। আধাঘণ্টাব্যাপী ওই সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে কর্মচারীদের বুঝিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান কার্যালয় থেকে বের হয়ে দ্রুত তার বাসভবনে যান। পরে ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গিয়ে উপস্থিত হন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করেন।
জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় তিনি হতভম্ব হয়ে গেছেন। একজন পুলিশ কনস্টেবলকে জেলা প্রশাসকের গাড়ি এবং তাতে তার দুই কন্যা আছে পরিচয় দেওয়ার পরও চালককে মারধর করা ঠিক হয়নি। তাছাড়া এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা তার দুই শিশুকন্যা ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গাড়িচালকের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এরই মধ্যে অভিযুক্ত দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে গাজীপুরে সর্বত্র খুবই চাঞ্চল্যের
সৃষ্টি হয়েছে।

























